নিজস্ব প্রতিবেদক
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত অধিকাংশ সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হয়েছে বিএনপি। এটি জানিয়ে দলটির পক্ষ থেকে অনলাইন ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে। সংস্কার কমিশনের কতগুলো সংস্কারের সঙ্গে একমত পোষণ করা হয়েছে, কতগুলোর বিষয়ে আংশিক কিংবা নীতিগতভাবে একমত, আর কতগুলো প্রস্তাবে একমত হতে পারেনি তা ক্যাম্পেইনে তুলে ধরা হচ্ছে।
শনিবার (৫ এপ্রিল) বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত প্রচারধর্মী পোস্ট দেখা গেছে।
সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের এক পোস্টে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবের একটি ছাড়া বাকি সবগুলো প্রস্তাবে একমত পোষণ করেছে বিএনপি। বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৮৭ শতাংশের সঙ্গে পুরোপুরি কিংবা নীতিগতভাবে একমত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে দলটি। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ৫৪ শতাংশ সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলেও দলটির পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়।
নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার কমিশনের দেওয়া বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকারসহ ৫৬ শতাংশ প্রস্তাবে বিএনপির মত রয়েছে বলেও পোস্টে জানানো হয়।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের উচ্চাভিলাষী, পরীক্ষামূলক ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে এমন প্রস্তাবগুলোর বিরুদ্ধে বিএনপি দ্বিতীয়বারের মতো অবস্থান নিয়েছে—এমন প্রচারণা অনলাইনে তুলে ধরা হয়েছে।
সংস্কারের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে বলা হয়, অধিকাংশ সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপি একমত। দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব এমন ও বাস্তবমুখী সব প্রস্তাবে বিএনপি একমত। তবে, উচ্চাভিলাষী ও পরীক্ষামূলক প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে অধিকতর আলোচনা প্রয়োজন। এছাড়া নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে, কিংবা সরকারের অচলাবস্থা সৃষ্টি করে নাগরিক সেবা রুদ্ধ করে এমন প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে বিএনপির দ্বিমত রয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিচার বিভাগ সংস্কারের ২৩ সুপারিশের মধ্যে ২০টিতে বিএনপি একমত বলে জানিয়েছে। দুদক সংস্কারের ২০ সুপারিশের ১৯টিতে বিএনপি একমত ও আংশিক একমত জানিয়েছে।
জনপ্রশাসনের সংস্কারের ২৬ প্রস্তাবের অর্ধেকের বেশি বিষয়ে বিএনপি একমত, বাকিগুলোর বিষয়ে মন্তব্য রয়েছে। আর সংসদে ২ জন ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন বিরোধী দল থেকে মনোনীত করতে বিএনপি একমত।
বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, দলের সংস্কারবিষয়ক ইতিবাচক মনোভাব এই পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝা যায়।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য শায়রুল কবির খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিএনপি এখন থেকে আরও দুই বছর আগে সংস্কার পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একাধিকবার বক্তব্যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি নৈতিকভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রের কল্যাণে দলটি সংস্কার করবে।