আলোচিত আতিক ফের আলোচনায়

0
69

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে গুনকীর্তন করে বই লিখে বিশেষভাবে সন্মানিত হওয়া এক সময়ের বিএনপি ঘরানার আতিকুর রহমান দিন বদলের হাওয়ার মতো নিজেকে বদলে দিয়ে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সহযোগী সংগঠন যুবমৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হয়েছেন অনেক আগেই। এখন তিনি তার নেতা ও বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীর নামের উপর ভর করে সংসদ সদস্য স্বপ্ন দেখছেন।

বাবুগঞ্জ উপজেলা থেকে শুরু করে মুলাদী উপজেলার সর্বত্রই আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে যুবমৈত্রীর কেন্দ্রীয় এই নেতাকে নিয়ে। বাবুগঞ্জের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান জানান দিতে দুই হাতে টাকা খরচ করছেন যুবমৈত্রির এই নেতা। হঠাৎ করে কোটি পতির বনে যাওয়া এই আতিকের আয়ের উৎস নিয়ে রয়েছে নানা রহস্য। এলাকাবাসীর অভিযোগ বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এক প্রতিমন্ত্রীর হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন আতিক। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সুচতুর আতিক কৌশলে হয়ে যান প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর এপি এস। অভিযোগ রয়েছে কালো টাকা সাদা করতে বর্তমান সরকারের আমলে নিজের নামে করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন তিনি। আর কয়েক মাস পরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের আমেজ এখনই দেখা যাচ্ছে প্রতিটি সংসদীয় আসনে। তার ব্যত্যয় হয়নি বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) সংসদীয় আসনে। ইতিমধ্যে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য মাঠে নেমে পরেছেন আলোচিত সেই যুবমৈত্রীর নেতা আতিকুর রহমান আতিক।

এই ব্যক্তি বর্তমানে ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে মনোনয়ন চেয়ে এলাকায় প্রচারনা চালাচ্ছেন, গঠন করছেন জনমত। তবে খোদ বাবুগঞ্জ ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবুন্দ আতিকুর রহমানের এই প্রচারনা ভালোভাবে নিচ্ছেননা। তাদের দাবী যুব মৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পদ আগলে রাখলেও এটি তার টাকার জোরের পদ। মূলত ছাত্রমৈত্রী, যুবমৈত্রী ও মূলদল ওয়ার্কার্স পার্টির আদর্শের কোন কিছুই ধারন করেন না আতিকুর রহমান। চারদলীয় জোট সরকার যখন ক্ষমতায় ছিলেন সেই সময়ের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রি ও বর্তমান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে কাজ করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বিএনপি থেকে পদ পদবি পাওয়ার জন্য বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে তার প্রকাশিত গ্রন্থও রয়েছে। ২০০৪ সালে মার্চ মাসে ঢাকার (৫০ বাংলা বাজার) সেতু প্রকাশন থেকে আতিকুর রহমান সম্পাদীত ‘ছোটদের প্রিয় মানুষ জিয়াউর রহমান’ বইটি প্রকাশ করেন। সেখানে সম্পাদকীয়তে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক গুরুত্বের দিকটি অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তি ও লেখকগন কখনো ভালো ভাবে তুলে ধরেননি।’ ‘বাংলাদেশকে যদি একটি সবুজ শ্যামল পটভূমি বলা হয় তবে সবুজ বাংলাদেশের স্থপতি জিয়াউর রহমান একটি ফুটন্ত ফুল। একটি জাতির স্বাধীনতা যুদ্ধের শোষক হিসেবে মহানায়ক জিয়া।’ অপর দিকে বইটির ৮০তম পৃষ্ঠায় মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়া শিরোনামের প্রবন্ধে আতিকুর রহমান উল্লেখ করেন জাতির জরক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রের আগে মেজর জিয়াউর রহমান স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি স্বাধীনতার ঘোষণা লিখে তা স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র থেকে পাঠ করে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষনাকে আড়াল করতে মেজর জিয়াকে নিয়ে এমন ভুল তত্ত্ব ও তথ্য সন্ত্রাস চালান তার প্রকাশিত বইটির মাধ্যমে। ঐ বইতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে তথ্য দিয়ে মূলত বিএনপির আদর্শকে আলোচনায় আনার চেষ্টা চালিয়েছিলেন আতিকুর রহমান। এই বইটি দিয়ে ততকালিন চারদলীয় জোট সরকার আমলে সংস্কৃতী মন্ত্রানালয় থেকে পুরস্কার পেয়েছেন আতিকুর রহমান এমটি অভিযোগ করেন বাবুগঞ্জ উপজেলা ওয়াকার্স পার্টির সাধারন সম্পাদক টি এম শাহজাহান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বিএনপি সরকার পতনের পর বইটি নিয়ে বেকায়দায় পরে যান আতিকুর রহমান। বিভিন্ন মাধ্যমের প্রাপ্ত তথ্য মতে ২০০৯ সালে প্রকাশনা সংস্থা সেতু প্রকাশনকে ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে টাকা দিয়ে সমস্ত বইগুলো খরিদ করে নেন।

বাবুগঞ্জ উপজেলা জাতীয় কৃষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক গেলাম হোসেন বলেন, সেলিমা রহমানের সাথে যখন কাজ করছেন তখনই মূলত বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন। তিনি দাবী করেন হাওয়া ভবনের সুপারিশক্রমে সিএনজি ব্যবসা শুরু করেন আতিকুর রহমান আতিক। তারেক রহমান যখন ঢাকার রাস্তা থেকে অটো টেম্পু তুলে দিয়ে সিএনজি চলাচলে বাধ্যতামূলক নিয়ম চালু করেন তখন প্রতিমন্ত্রীর নামে সিøপ নিয়ে ব্যংক থেকে কমদামে সিএনজি ক্রয় করে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে টাকার কুমির বনে যান। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারী ব্যবসায় প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। যদিও প্রচারণাপত্রে নিজেকে সৎ ও শিক্ষানুরাগী, উন্নয়নের রূপকার বলে দাবী করা হচ্ছে। এদিকে তার প্রচারনায় বেকায়দায় বাবুগঞ্জ উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টি। বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী আতিকুর রহমান যখন ওই আসনে মনোনয়ন চাইছেন তখন পুরো আসন জুড়ে সমালচনার ঝড় বইছে। বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রমৈত্রীর আহবায় এইচ এম আলী হোসেন বলেন, আতিকুর রহমানের আয়ের উৎস নিয়ে আপনারা খোজা খুজি করেন তাহলেই বেড়িয়ে আসবে থলের বিরাল। তিনি আরোও বলেন আতিকুর রহমান তার আত্মীয় স্বজনের নামে বেনামে বিপুল সম্পত্তী করেছেন। বিদেশেও রয়েছে তার প্রচুর ব্যবসা বানিজ্য। কারন ইটালিতে দীর্ঘদিন বসবাস করেছেন আতিকুর রহমানের ভাই মশিউর রহমান। এই সুবাদে বাড়তি সুবিধা থাকায় বিদেশেও বিনিয়োগ করেছেন আতিক এমনটাই অভিযোগ করেন ছাত্রমৈত্রীর এই নেতা। বাবুগঞ্জ উপজেলার যুবমৈত্রীর সভাপতি আলাউদ্দিন খান বলেন, আতিকুর রহমান পারিবারিক ভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত ছিল। তার মামা রাকিব বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল নেতা হওয়ার সুবাধে বিগত জোট সরকারের আমলে সেলিমা রহমানের সাথেই থাকতেন।

সে সময় আতিকুর রহমান সেলিমা রহমানের আত্মীয় পরিচয়ে ধাবরিয়ে বেড়িয়েছেন পুরো বাংলাদেশ। সেখান থেকেই শুরু হয় আতিকুর রহমানের টাকা আয়ের পথ। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাতা রাত্রী টাকার কুমির হয়ে যায় আতিক। অভিযোগ আছে সোনা চোরা চালানিদের সাথেও আতিকুর রহমানের রয়েছে গোপন যোগাযোগ। তবে এবিষয়ে আতিকুর রহমান বলেন, আমি কোনদিন বিএনপি’র আদর্শে বিশ্বাসী ছিলাম না। এমনকি ঐ দলের সাথে নূন্যতম কোন যোগাযোগ ছিল না। আমাকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার জন্য ধরে বেঁধে বিএনপি বানানো হচ্ছে। বই প্রসঙ্গে বলেন, আমি আমার জীবনে এই নামের কোন বই সম্পাদনা করিনি। কোথাকার কোন আতিকুর রহমানের বই আমার নামে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে লাইনটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

CAPTCHA