বরিশালে সাধারন মানুষদের জিম্মি করে চিকিৎসক ডায়গানস্টিক ও ক্লিনিক মালিকরা আয় করছেন কোটি কোটি টাকা

2
217

বায়েজীদ পান্নু : জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য সেবাবে সকল নাগরীকের দ্বাড় প্রান্তে পৌছে দিতে । ২০১৭ জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি স্বাস্থ্য সেবার সমস্যা সমাধানে গুরুত্বের সহিত দেখতে বলা হয়েছে । এছাড়াও এই নীতিতে স্বাস্থ্য সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে । ইতিমধ্যে বর্তমান সরকার দেশের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা সেবা আইন ২০১৬ এর খসড়া প্রকাশিত করেছে। স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া দেশের ভ’ক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য নীতিতে সকল নাগরীকের স্বাস্থ্য সেবা পৌছানোর কথা বলা হলে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারন মানুষ । চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া ভূক্তভোগীরা মনে করেন ১৯৮২ সনের জারি হওয়া মেডিকেল প্রাকটিস এন্ড প্রাইভেট ক্লিনিক এবং ল্যাবাটরিস অধ্যাদেশ কার্যক্রম না থাকায় এবং এই অধ্যাদেশ সময়ের পরিবর্তনের সংস্কার না করায় দেশের সাধারন মানুষ আজও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হ”্ছ।ে এতে সরকারী বেসরকারী চিকিৎসরা ও ক্লিনিক মালিকরা সেবার নাম করে ক্লিনিক বেসরকারী হাসাপাতাল ও ব্যাক্তিগত চেম্বার বসিয়ে চিকিৎসা প্রার্থীদের জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। দেশের চিকিৎসকরা এতই শক্তিশালী তাদের বিরুদ্বে কেউ প্রতিবাদ করতেই সাহস পায়না । প্রতিবাদ করলে দেশের হাসপাতালে চিকিৎসা বন্ধ করে দিনের পর দিন কর্মবিরতি করার অভিযোগ রয়েছে । ১৯৮২ সনের অধ্যাদেশে রয়েছে সরকারী ও বেসরকারী চিকিৎসকদের সরকারের ফি নির্ধারনের পাশাপাশি রেজিস্ট্রি চিকিৎসকদের কর্তব্যকালীন সময় বাহিরে প্রাকটিস না করার নির্দেশ রয়েছে । এছাড়াও বেসরকারী ভাবে অপারেশনের চার্জ নির্ধারন করেছেন অধ্যাদেশে ।

পাশাপাশি বেসরকারী ল্যাবটরিতে বিভিন্ন পরীক্ষার ফি নির্ধারন করেছেন অধ্যাদেশে । এমনকি অধ্যাদেশে শাস্তির বিধান রেখেছেন । এতে কোন নিবন্ধিত মেডিকেল প্রাকটিশনার বা ল্যাবরেটরির মালিক বিধান লংঘন করে এতে তার ৫ হাজার টাকা জরিমানা বিধান রয়েছে ঐ অধ্যাদেশে । পাশাপাশি উভয়ই ৬ মাসের সহ¯্রাব্দের দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে । এমনকি আদালত এই মালিকের দোষি সাব্যস্ত করার সময় তা ক্লিনিকের সমস্ত বা অন্য কোন স্থাবর সম্পত্তির সরকারকে জব্দ করার আদেশ দিতে পারে বলে অধ্যাদেশে রয়েছে । অধ্যাদেশ থেকে জানাগেছে বেসরকারী ভাবে ব্যক্তিগত চেম্বারে প্রফেসর , এ্যাসোসিয়েট প্রফেসর অথবা সমমানের চিকিৎসকদের প্রথমবার ৪০ টাকা এবং ২য় বার ২০ টাকা নির্ধারন রয়েছে । এছাড়াও এই সমমানের বাসায় গিয়ে রোগী দেখতে ৮০ টাকা নির্ধারন করেন । সহকারী প্রফেসর ,সিভিল সার্জন বা সমমানের চিকিৎসকদের পরামার্শ ফি ১ম বার ৩০ টাকা ২য় বার ১৫ টাকা এবং বাসায় গিয়ে রোগীর পরামর্শ ফি ৬০ টাকা । এছাড়াও অন্যন্ন চিকিৎসকদের ১ম বার ২০ টাকা ২য় বার ১০ টাকা ও বাসায় ৪০ টাকা নির্ধারন করেন অধ্যাদেশে সরকার। এছাড়াও অতিরিক্ত যোগ্যতা সম্পান্ন চিকিৎসকদের ফি নির্ধারন হয় । এতে ১ম বার ৪০ টাকা ২য় বার ২০ টাকা ও বাসায় গিয়ে পরামর্শ ফি ৮০ টাকা নেওয়ার জন্য বলা আছে অধ্যাদেশে । অপরদিকে অধ্যাদেশে বেসরকারী মেজর অপারেশনের ক্ষেত্রে অপারেশরন রুম চার্জ ৬০০ টাকা এবং এ্যানেস্থিতিয়া চার্জ ১ম বার ১ ঘন্টা সাথে গ্যাস চার্জ ৮০০ টাকা ও অপারেশন ফি ২০০০ টাকা নিতে বলা হয়েছে । এছাড়াও অধ্যাদেশে ১০৫ ধরনের রক্ত পরীক্ষায় ফি নির্ধারন করেছেন ।

এতে ৮ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা নির্ধারন করেছে। এছাড়া অধ্যাদেশে ও ইলেকট্রোকার্ডিয়া গ্রাম এবং রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষার ফি ৬০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নিতে বলা হয়েছে । অধ্যাদেশে আরো বলা হয়েছে বেসরকারী হাসপাতাল ক্লিনিকে ও প্রাইভেট চেম্বারে রোগীর পরামর্শ ফি প্রদর্শন করার পাশাপাশি তাদের রশিদ প্রদান করতে হবে। চিকিৎসকের দেওয়া পরীক্ষার ফিস প্রিন্ট রশিদ প্রদান করতে হবে রোগীদের । এছাড়াও ঐ ১৯৮২ সনের অধ্যাদেশে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে নানা দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জানাগেছে মেডিকেল প্রাকটিস এন্ড প্রাইভেট ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরিস অধ্যাদেশে ১৯৮২ সনের পর আর কোন সরকার এই অধ্যাদেশের পরিবর্তন করেননি । তবে বর্তমান সরকার সারাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার অনিয়ম বিস্তার চলছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৬ সনে চিকিৎসা সেবা আইন খসড়া তৈরি করেন । বর্তমানে ঐ খসড়াটি যুগোপযোগী করে স্বাস্থ সেবা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকদের সুরক্ষার জন্য ২০১৬ আইনটিকে ২০১৮ চিকিৎসেবা ও সুরক্ষা আইন নামে খসড়া চুরান্ত করেছেন । বর্তমানে এই আইনটি সংসদে পাশ হওয়ার অপেক্ষায় । তবে স্বাস্থ্য সংশ্লিস্ট সূত্রে জানাগেছে চিকিৎসা সেবা ও সুরক্ষা আইন খসড়া হওয়ার পর কতিপয় চিকিৎসকরা এই আইনের বিরোধিতা করায় আইনটি পাশ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে । এ ব্যাপোরে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান বেসরকারী মেডিকেল প্রাকটিস এন্ড প্রাইভেট ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরিস অধ্যাদেশে ১৯৮২ সনের পর আর কোন সরকার এই অধ্যাদেশের পরিবর্তন করেননি ।

তবে বর্তমান সরকার এই অধ্যাদেশটি যুগোপযোগী করতে ইতিমধ্যে সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীকে আহবায়ক করে ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করছেন। পাশাপাশি বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্য সেবা প্রদান ব্যক্তির স্বার্থে ২০১৮ স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন খসড়া চুরান্ত করেছেন। এই আইনটি পাশের অপেক্ষায় আছে বলেও তিনি এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন। নতুন আইনে রয়েছে অফিস সময়ে কোনো ডাক্তার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কিংবা ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতে পারবেন না। ছুটির দিনে নিজ জেলার বাইরে গিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতে পারবেন না। নিয়ম না মানলে ওই ডাক্তারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের কারাদন্ড দেয়া হবে। এছাড়া আদালত উপযুক্ত মনে করলে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন। এছাড়া নতুন এ আইনে ডাক্তাররা সরকার নির্ধারিত ফি’র তালিকা চেম্বারের সামনে দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে বাধ্য থাকবেন। আদায় করা ফি বাবদ রোগীকে রসিদ দিতে হবে। রশিদের মুড়ি ডাক্তার নিজ দায়িত্বে সংরক্ষণ করতে বাধ্য থাকবেন। কোনো ডাক্তার স্বীকৃত, অনুমোদিত সার্টিফিকেট কোর্স, ডিপ্লো বা ডিগ্রি ছাড়া কোনো যোগ্যতার বিবরণ সাইনবোর্ড, নামফলক কিংবা ভিজিটিং কার্ডে ব্যবহার করতে পারবেন না। মুক্তিযোদ্ধা ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের জন্য বিনামূল্যে শতকরা ১০ ভাগ শয্যা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। ডাক্তারের বিরুদ্ধে চিকিৎসা সংক্রান্ত যে কোনো ধরনের অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করবে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল। ওই সংস্থার তদন্তে কোনো ডাক্তার দোষী হলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদন্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। পক্ষান্তরে কোনো ব্যক্তি ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে মারা গেলে কিংবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ভাংচুর করলে এবং এর ফলে কোনো ডাক্তার কিংবা বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে আক্রমণকারীকে ৩ বছরের কারাদন্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড করা হবে।

এছাড়া অতিরিক্ত ফি আদায় করলে ডাক্তারের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। আইনের খসড়া থেকে জানা যায়, সরকার সময়ে সময়ে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ডাক্তারদের ফি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংক্রান্ত চার্জ নির্ধারণ করে দেবে। কোনো ডাক্তার সেবাসংক্রান্ত কোনো ধরনের মিথ্যা প্রত্যয়নপত্র প্রদান করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে কোনো অর্থকড়ি নেয়া যাবে না। বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে অথবা ডাক্তারের ব্যক্তিগত চেম্বারে বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করতে হবে। চিকিৎসা সংক্রান্ত সব তথ্য রেজিস্টারে লিখে রাখতে হবে। ওই রেজিস্ট্রার গোপনীয় দলীল হিসেবে গণ্য হবে। রোগীকে রোগের বিবরণ জানাতে হবে। প্রয়োজনীয় ও বিকল্প চিকিৎসা, চিকিৎসা সংশ্লিস্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং অস্ত্রোপচারের জটিলতা সম্পর্কে রোগীকে অবহিত করতে হবে। এমনকি খাতওয়ারি চিকিৎসা ব্যয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে। সন্দেহজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা, বিষ প্রয়োগ, বেআইনি গর্ভপাত, অগ্নিদগ্ধ হওয়া, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি, লাঞ্ছিত ও প্রহৃত ক্ষতি, অন্যের দ্বারা যে কোনো ধরনের আঘাতজনিত ক্ষতির ক্ষেত্রে চিকিৎসককে অবশ্যই সংশ্লিস্ট থানাকে অবহিত করতে হবে।

ডাক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধগুলোর তদন্ত ও বিচার ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৫নং আইনের আওতায় পরিচালিত হবে। ডাক্তারের অপরাধের ফলে রোগীর মৃত্যু হলে বাংলাদেশ দন্ডবিধি-১৮৬০ এর ৪৫নং আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে। এছাড়া সরকারি লাইসেন্স ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করলে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ২ বছরের কারাদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবে। বেসরকারি কোনো চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা পরিদর্শন, চিকিৎসা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি, কাগজ পত্র পরীক্ষা করতে পারবেন। সরকারি নিয়মনীতি লঙ্ঘিত হয়েছে- প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যাবে। চিকিৎসক আইন না মানলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিদর্শনকালে যদি প্রমাণ হয় জনস্বার্থেই এ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া দরকার, তাহলে সরকার যে কোনো বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দিতে পারবেন। এমনকি লাইসেন্সও বাতিল করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ১৫ দিনের সময় দিয়ে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। লাইসেন্স বাতিল হলে বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে চিকিৎসারত ব্যক্তিদের ওই প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে অন্য চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করতে বাধ্য থাকবে। এ আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্য মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৮২ বাতিল বলে গণ্য হবে। ভূক্তিভোগিদের অভিযোগ ১৯৮২ সনের অধ্যাদেশ জারি হওয়ার পর এর কোন পরিবর্তন হয়নি ।

এমনকি চিকিৎসা সেবা আইন পাশ না হওয়ায় জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির কথা বলে সারাদেশের সাথে বরিশালের সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসকরা ও অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা বরিশালের বিভিন্ন স্থানে চেম্বার ও বেসরকারী মেডিকেল বসিয়ে সাধারন চিকিৎসা প্রার্থীদের জিম্মি করে নানা উপায়ে কোটি কোটি টাকা আয় করে যাচ্ছেন। এতে চাকুরী থেকে অবসর নেওয়া গাইনি চিকিৎসক জি,কে চক্রবতী রোগী প্রতি পরামর্শ ফি নিচ্ছেন ১৫০০ টাকা । এভাবে তিনি দৈনিক সকাল থেকে রাত অবধি ১০০ জনের উপরে রোগীকে পরামর্শ দিয়ে থাকে শহরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে । এছাড়াও এই চিকিৎসক বিভিন্ন ক্লিনিকে দৈনিক ১০ টির বেশি অপারেশন করে থাকে । এতে তিনি প্রত্যেক রোগীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা নেন প্রতি অপারেশন বাবদ । পাশাপাশি এই চিকিৎসক রোগীর বিভিন্ন টেস্ট থেকে একটা কমিশন নিয়ে থাকেন ক্লিনিক মালিকের কাছ থেকে । তার থেকে পিছিয়ে নেই আরেক গাইনি চিকিৎসক তানিয়া আফরোজ । এই সরকারী চিকিৎক বর্তমানে বরিশাল সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত । সে সরকারী হাসপাতালে কখন রোগীদের সেবা প্রদান করে এর কোন ঠিক ঠিকানা নেই । বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আবসিক সার্জন হিসাবে কর্মরত থাকাবস্থায় সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার চাইতে তিনি শহরের দুটি বেসরকারী হাসপাতাল ক্লিনিক ব্যস্ত সময় পার করছেন যা এখনও অব্যহত রয়েছে । তিনি দুটি স্থানে ১৫০ মতো রোগীর পরামর্শ দিয়ে থাকেন । তার পরামর্শ ফি ৬০০ টাকা এবং অপারেশন ফি রোগী প্রতি সর্বোচ্চ ৩৫/৪০ হাজার টাকা আদায় করছে । পাশাপাশি বিভিন্ন পরীক্ষা বাবদ ক্লিনিকের মালিকের কাছ নিচ্ছে একটা দামী কমিশন। এছাড়াও গাইনি চিকিৎসক হাওয়া জাহান ,সেলিনা পারভিন সহ গাইনির ছোট বড় চিকিৎসকরা আয় করছেন কোটি কোটি টাকা । কোটি টাকাও কামাচ্ছেন সার্জারী চিকিৎসকরাও । বরিশালে সবচেয়ে নামীদামী সার্জারী চিকিৎসক জহির উদ্দিন মানিক । তার ব্যক্তিগত চেম্বার বরিশাল শহরের কালিবাড়ী রোড ফেয়ার হেলথ ক্লিনিকে । সে দৈনিক ৪০ জনের বেশি রোগীর পরামর্শ দিয়ে থাকেন তার ঐ ব্যক্তিগত চেম্বারে ।

এতে সে প্রত্যেক রোগীর পরামর্শ ফি নেন ১ হাজার টাকা । সে ফেয়ার হেলথ ও মমতায় দৈনিক ১০/১৫টির বেশি অপারেশন করে থাকে। তিনি ছোট অপারেশনে তার ফি ২৫ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন । আর বড় ধরনের অপারেশনে সর্বোচ্চ ৪০/৪৫ হাজার টাকাও নেন। এছাড়াও রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষা থেকে একটা কমিশন নেন। এতে তিনি বছরে কোটি টাকা আদায় করেন। তার থেকে পিছিয়ে নেই সার্জারী চিকিৎসক মনিরুল আহসান । এই চিকিৎসক বরিশাল ইসলামিয়া হাসপাতালে তার ব্যক্তিগত চেম্বার বসিয়ে রোগীদের পরামর্শ দেন। দৈনিক তিনি প্রায় ১০০ জনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন । তিনি পরামর্শ ফি ৬০০ টাকা নিয়ে থাকেন। এছাড়াও এই চিকিৎসক ছোট বড় ধরনের ২০/২৫ টি অপারেশন করে থাকেন। ছোট অপারেশনে ১০/১২ হাজার টাকা থেকে বড় অপারেশন বাবদ ৩০ হাজার টাকার বেশি ফি নিয়ে থাকেন । এসব বাদে এই চিকিৎসক রোগীর বিভিন্ন টেস্ট থেকে একটা কমিশন পেয়ে থাকেন। এছাড়াও বরিশালে সার্জারী বিভাগের সরকারী শেবাচিম হাসপাতালের অন্যন্ন চিকিৎসকরা নগরীর বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরামর্শ , অপারেশন ও টেস্ট থেকে কমিশন পেয়ে আয় করছেন কোটি কোটি টাকা । শুধু সার্জারী বিভাগের চিকিৎসরাই নয় রোগীদের পরামর্শ দিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করে যাচ্ছেন অর্থোপেডিক্্র বিভাগের চিকিৎসকরা । এসব চিকিৎসকরা শেবাচিম হাসপাতালের চাইতে বেশি ব্যস্ত সময় কাটান শহরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়গাস্টিক সেন্টারে । আর্থোপেডিক্্র বিভাগের চিকিৎসক মনিরুজ্জামান শাহিন সে বরিশাল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও সদর রোড সাউথ এপ্লো মেডিকেল সেন্টারে রোগীদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন । সে দৈনিক ৪০ জনের বেশি রোগীর পরামর্শ দিয়ে থাকেন । তার পরামর্শ ফি ৮০০ টাকা । এছাড়াও তিনি বিভিন্ন ক্লিনিকে ১০ থেকে ১৫ টি ছোট বড় ধরনের অপারেশন করে থাকেন । ছোট অপারেশনে ১০/১৫ হাজার টাকা এবং মেজর বড় ধরনের অপারেশনের প্রায় হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। এভাবে তিনি পরামর্শ অপারেশন ও রোগীর টেস্ট থেকে কমিশন নিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করচ্ছেন। কোটি টাকা আয় করচ্ছেন শেবাচিম হাসপাতালের আরেক এই বিভাগের চিকিৎসক মাহাবুব মোর্শেদ রানা । সে দৈনিক ২০ জনের মতো রোগীর পরামর্শ দেন বাটার গল্লি ন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টারে । তার পরামর্শ ফি ৮০০ টাকা।

সে বরিশালে বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিকে দৈনিক টির মতো অপারেশন করেন । এসব অপারেশন ফি সে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে থাকে । এছাড়াও এই চিকিৎসক রোগী বিভিন্ন প্যাথলোজিক্যাল টেস্ট থেকে কমিশন পেয়ে থাকেন । এই বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মোনায়েম সে সদও রোডস্থ বাটার গল্লি একটি বেসরকারী মেডিকেল সেন্টারে ৩০ বেশি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লিনিকে ১০/১২ টি ছোট বড় অপারেশন করে থাকেন । সে রোগীর পরামর্শ ফি ৮০০ টাকা এবং অপারেশন ফি সর্বোচ্চ ৩০/৩৫ হাজার টাকা নেন। এছাড়াও এই অর্থোপেডিক্্র বিভাগের বরিশালে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। এরমধ্যে রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত ডা. আজিজ রহিম , পিজুসকান্তি দাস , ডা. আনোয়ার হোসেন । এই তিনজন রোগীর পরামর্শ অপারেশন ও টেস্টে কমিশন নিয়ে আয় করছেন কোটি কোটি টাকা। এরমধ্যে ডা. আনোয়ার হোসেন রোগীর পরামর্শ ও অপারেশন করে সব চেয়ে বেশি আয় করছেন। সে বরিশাল বান্দ রোডস্থ রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে স্বত্বধীকার। এদিকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে আর্থোপেডিক্্র বিভাগের বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক না হয়েও শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসকের নাম টানিয়ে ডা. কবিরুজ্জামান ও মোঃ সগির বরিশাল ল্যাব এইড সহ বিভিন্ন স্থানে রোগী পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি অপারেশন করছেন । সেই সাথে রোগীর টেস্ট বাবদ কমিশন নিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন। এই চিকিৎসকরা দৈনিক ৪০ জনের বেশি রোগীর পরামর্শ দিয়ে থাকে । এই দুজন রোগীর পরামর্শ ফি ৮০০ নিচ্ছেন। পাশাপাশি এই দুজন ছোট বড় অপারেশন করে কোটি টাকা আয় করছেন।

এছাড়াও বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালের অর্থোপেডিক্্র বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অবসরপ্রাপ্ত ডা. ইদ্রিস আলী তিনি ঢাকায় থাকেন । তিনি সপ্তাহে তিনদিন বরিশাল সদর রোডের কনিকা ডায়গানস্টিক সেন্টারে রোগীর পরামর্শ দেন । কর্তব্যরত অবস্থায় চিকিৎসক শেবাচিম হাসাপাতালের চাইতে সে কনিকায় ডায়গানস্টিক সেন্টারে পরামর্শ দিতেন। সে পরামর্শ ,অপারেশন ও রোগীর প্যাথালজিকাল টেস্ট বাবদ আয় করছেন কোটি কোটি টাকা। কোটি কোটি টাকা আয় করে যাচ্ছেন বরিশালে শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরাও। অন্য বিভাগের মতো এই চিকিৎসকরা শেবাচিম হাসপাতালে আসেন সকাল ১১ টায় । কোন ভাবে একটা ঘোরা দিতে ২ টার মধ্যে ওয়ার্ড ত্যাগ । মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক অসিত ভুষন দাস সে সদর রোডস্থ কনিকা ডায়গানস্টিক সেন্টারে রোগীর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বিকাল থেকে গভীর রাত অবধি প্রায় ২০০ রোগীর পরামর্শ দিয়ে থাকেন । তার পরামর্শ ফি ১০০০ হাজার টাকা। এভাবে সে কোটি কোটি টাকা আয় করছে । এছাড়াও বিভিন্ন পরীক্ষা বাবদ আয় করছে টাকা। তার থেকে পিছিয়ে নেই শেবাচিম হাসপাতালের কলেজের অধ্যাক্ষ ভাস্কর সাহা। সে দৈনিক ৭০ জনের উপরে রোগীর পরামর্শ দিয়ে থাকেন শহরের শুভ ডায়াগানস্টিক সেন্টারে । সে রোগীর পরামর্শ ফি নিচ্ছেন ১ হাজার টাকা । পরামর্শ ছাড়াও সে রোগীর বিভিন্ন টেস্টের মাধ্যমে আয় করছেন কোটি কোটি টাকা। এভাবে দৈনিক ১০০ রোগীর পরামর্শ ,রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষা থেকে কোটি টাকা আয় করছেন চিকিৎসক গোলাম মাহাবুব সেলিম ,আবুল কালাম আজাদ ,এইচ.এন .সরকার সহ অনেকে। এদিকে জানাগেছে বরিশালে নিউরো মেডিসিনের চিকিৎসক মাত্র দুজন অমিতাভ সরকার ও আনোয়ার হোসেন বাবলু। এরা দুজনেই শেবাচিম হাসাপাতালে চিকিৎসক । অভিতাভ সরকার দৈনিক দেড়শত মতো রোগীর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সে প্রত্যেক রোগী থেকে পরামর্শ ফি বাবদ নিচ্ছেন ১ হাজার টাকা। এভাবে সে আয় করে আসছেন কোটি কোটি টাকা । এছাড়াও তিনি রোগীর সিটি স্ক্যান ও বিভিন্ন পরীক্ষা বাবদ আয় করছেন কোটি কোটি টাকা। এভাবে মেডিসিন বিভাগের অনেক চিকিৎসকই কোটি টাকা কামাচ্ছেন। কোটি টাকা কামাচ্ছেন হৃদরোগের চিকিৎসকরাও। বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসক জাকির হোসেন সে বরিশাল নামিদামি মেডিকেল সেন্টার বেলভিউতে প্রায় ৫০ জন রোগীর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এতে সে ইসিজি সহ ১ হাজার টাকা নেন । এছাড়াও ইকো কাডিওগ্রাফি সহ বিভিন্ন পরীক্ষা বাবদ কোটি কোটি টাকা আয় করছেন।

তার থেকে পিছিয়ে নেই শেবাচিম হাসাপাতালের কার্ডিওলোজি বিভাগের আরেক চিকিৎক হুমায়ন কবির । সে রুপাতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন আবদুল্লাহ হাসপাতাল নামে তৈরি করে বিভিন্ন পর্যায়ের রোগীদের পরামর্শ ,অপারেশন সহ বিভিন্ন রোগের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আয় করে যাচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। এছাড়াও একই বিভাগের চিকিৎসক রনজিৎ খান দৈনিক ৫০ জনের বেশি রোগীর পরামর্শ দিয়ে থাকেন । তার পরামর্শ ফি ১ হাজার টাকা । সে পরামর্শ ,রোগীদের বিভিন্ন টেস্ট থেকে আয় করে যাচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। এই চিকিৎসকের থেকে পিছিয়ে নেই একই বিভাগের শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক সালাউদ্দিন আহম্মেদ ।

সে বরিশাল সাউথ এপপ্লো নামক স্থানে তিনি দৈনিক ৪০ মতো রোগীর পরামর্শ দিয়ে আসছেন। এসব রোগী প্রতি ৮০০ টাকা পরামর্শ ফি , রোগীর বিভিন্ন প্রকার টেস্ট ও চুক্তিতে হার্টের রিন বসানো এবং এনজিও গ্রাম করে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন। এভাবে বরিশালে সরকারী শেবাচিম ও জেনারেল হাসপাতালর নাক,কান গলা ,চক্ষু চর্ম ও যৌন ,দন্ত সহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা বেসরকারী ভাবে রোগীদের পরামর্শ দিয়ে আয় করছেন কোটি কোটি টাকা। সেই কোটি টাকা আয় করছেন মাইক্রো বায়োলজী ,প্যাথলজিক্যাল বিভাগের চিকিৎসকরাও। শুধু চিকিৎসকরাই নয় কোটি কোটি টাকা আয় করছেন বেসরকারী মেডিকেল ,ক্লিনিক ও ডায়গানস্টিক সেন্টারের মালিক পক্ষকও বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তিভোগীরা ।

তাদের অভিযোগ জানাগেছে বেসরকারী মেডিকেল প্রাকটিস এন্ড প্রাইভেট ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরিস অধ্যাদেশে ১৯৮২ সনের পর আর কোন সরকার এই অধ্যাদেশের পরিবর্তন করেননি না করায় চিকিৎসকদের সাথে তাল মিলিয়ে বেসরকারী মেডিকেল ,ক্লিনিক ডায়াগানস্টিক মালিকরা তারা সেন্ডিকেড করে সরকারী মেডিকেলের পরীক্ষার ফির চাইতে দ্বিগুন টাকা নিয়ে রোগীদের পরীক্ষা করছেন।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

CAPTCHA