সচল থাকছেনা শেবাচিম হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন

1
47

নিজস্ব প্রতিবেদক : শেবাচিম হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন দশকোটি টাকায় কিনে বছরে লাখ টাকা মেরামত ব্যয়ে ছয়মাসও সচল থাকছেনা । প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে কুটকৌশলে অকেজো করে রাখে সিটিস্ক্যান অপারেটর। কারণ রোগী বাগাতে প্রতিষ্ঠানটির সামনেই গড়ে তুলেছে প্রাইভেট সিটিস্ক্যান সার্ভিস। এনিয়ে হাসপাতালটির পরিচালক ডা:বাকির হোসেনের সেই পুারানো বক্তব্য দেখেন আমি এখানে এসেছি বেশিদিন হয়নি। অনেক দিনের অনিয়ম। আর জঞ্জাল দুর করতে সময় লাগবে। আমরা চেষ্টা করছি।

এছাড়া সিটি স্ক্যানের সমগ্র প্রযুক্তি আর কলাকৌশল বিদেশ নির্ভর। যেকারণে সরবরাহকৃত কোম্পানির উপর অনেকাংশ নির্ভর করতে হয়। আমাদের এখানে টেকনেশিয়ান অপারেটর যারা রয়েছে এদেরকে বিদেশী এই প্রযুক্তির সাথে পরিচিত করতেও বেগ পেতে হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানি নানান রকম উপায়ে হাসপাতালে মেশিন দিয়ে চলে যায়। এরপরবর্তী সার্ভিস আদায় করতে গেলে বিপরীতমুখী চরিত্র ধারণ করে। বছরে বেশিরভাগ সময় সিটিস্ক্যান মেশিন সচল নাথাকার বিষয়ে অনুসন্ধানসূত্রে জানা গেছে, পাচ বছর আগে শেবাচিম হাসপাতালে দশকোটি টাকা ব্যায়ে আরেকটি সিটি স্ক্যান মেশিন বসানা হয় ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জহির। জাপানি প্রযুক্তির এ মেশিনটি হাসপাতালের আগের মেশিনের চেয়ে দ্বিগুন বেশি কার্যক্ষম। প্রথম মেশিনটি প্রায় পনেরো বছর আগে দেড়কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয় হাসমপাতালে। এটি বারবার অকেজো হওয়ার কারণে নতুন সিটিস্ক্যান মেশিন কেনা হয়েছে। অথচ বছওে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিকল থাকে মেশিনটি। কিন্তু নগরীতে একাধিক প্রাইভেট ডায়গনস্টিক সেন্টারে সিটি স্ক্যান মেশিন বছরে অন্তত এগার মাস সচল থাকে। এব্যাপারে মেডিনোভা ডায়গণস্টিক সেন্টারের জিএম কামাল হোসেন বলেন, সিটি স্ক্যানের অধিকাংশ সময়ই লাইট কেটে যায় যেটা স্ক্যানের কাজে ব্যবহৃত হয়। আর এটি আমদানি করতে হয় চায়না বা জাপান থেকে। এটিও ব্যয়বহুল বটে। কিন্তু আনাতে গিয়ে পনেরোদিনের মতো সময় লেগে যায়। সিটি স্ক্যানের অপারেটর যদি ঠিকমতো পরিচালনা করতে নাপারে তাহলে সমস্য লেগেই থাকবে এবং বারোমাস নির্দিষ্ট তাপমাতায়ও অপারেটিং করতে হয়। শুধু তাই নয় অপারেটর আন্তুরিক নাহলে মেশিন অকেজো করে রাখতে পারে। কারণে এ ধরণের ত্র“টি উদঘাটনের জন্য প্রকৌশল জনবল ঢাকাতে রযেছে তাও বেশ সিমিত। অপরদিকে শেবাচিম হাসপাতালের সিটি স্ক্যান অপারেটর ফারুক ও টুনু গংরা।

সিটি স্ক্যানের ফি প্রায় ষাট লাখ টাকা দুর্ণীতির দায়ে এদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শুধু তাই নয় হাসপাতালটির সামনে বরিশাল সিটি স্ক্যান নামে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরী করেছে। কোন প্রকার কাগুজে প্রমাণ ছাড়াই। এনিয়ে একাধিকসুত্র জানায়, হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন কুটকৌশলে এ গংরা অকেজো রেখে রোগী বাগিয়ে নেয় তাদের প্রতিষ্ঠানে। হাসাতালের দোতলায় সিটি স্ক্যান বিভাগের সামনে টুনু গংদের দালাল রয়েছে হাসপাতালের সিটি স্ক্যান নষ্ট বলে প্রচার করার জন্য। আর এ হোতাদের বক্তব্য আমরা এখন ওখানে ডিউটি করিনা। টেকনোলজিস্টদের দিয়ে সিটিস্ক্যান অপারেটিং করা হয়। অথছ ঘুরেফিরে এ সিন্ডিকেটের কবলেই সিটিস্ক্যান মেশিন।

কারণ হাসপাতালের কোন জনবলই এটি অপারেটিংয়ে পারঙ্গম নয়। সরেজমিনসূত্রে, হাজার শয্যার শেবাচিম হাসাতালটিতে দৈণিক প্রায় ৩/সাড়ে তিনশ রোগী ভর্তি হয় মেডিসিন, সার্জারি, শিশু, প্রসুতি, নাক কান গলা, অর্থোপেডিক্স, আইসিইউ, সিসিইউ, নবজাতকসহ চিকিৎসাধীন ওয়ার্ডগুলোতে ভর্তি হয়। এরমধ্যে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার রোগী চিকিৎসাধীন থাকে। দুর্ঘটনা ও স্ট্রোকজনিত রোগীর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় মস্তিস্কের সিটিস্ক্যান পরিক্ষা দিয়ে থাকে চিকিৎসকরা।

দৈণিক প্রায় ৩০/৫০টি সিটি স্ক্যান সম্পন্ন করা হয় শেবাচিমে। দুপুর দুইটার পর সিটিস্ক্যান দপ্তর বন্ধ থাকে হাসপাতালটিতে। এরপরবর্তী রোগীদেরকে বাইরের ডায়গণস্টিক থেকে সিটি স্ক্যান করাতে হয়। আর মেরুদন্ডের জন্য এমআরই পরীক্ষা প্রায় বছরজুড়ে হয়না শেবাচিমে। হাসপাতালে ২৫শ টাকায় সিটিস্ক্যান করানো সম্ভব হলেও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে করাতে গেলে প্রয়োজন প্রায় চারহাজার টাকা। এনিয় একাধিক রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন বন্ধ থাকায় শুধু অর্থনৈতিক গচ্ছায়ই নয় হ্যাপাও পোহাতে হয়।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

CAPTCHA