শেবাচিমে রোগীর জন্য রোগীর অর্থ দান : বছরে বিশ লাখ টাকা লোপাট

1
28

বরিশাল : বহি:ও জরুবিভাগে রোগীর দানের টাকা নিয়ে বছরে কোটি টাকার লুটপাট বেশ খোলামেলাই চলছে শেবাচিম হাসপাতালে। উপরি হাতানোর জন্য জরুরী ও বহি:বিভাগ ও রেন্ট কালেক্টর বিভাগে বছরের পর বছর চাকুরী করে আসছে দুর্ণীতির বরপুত্ররা।

হাসপাতালটির পরিচালকের বক্তব্য অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবো। শেবাচিম হাসপাতালটির সমাজ সেবা অফিসার দিলরুবা রইচি বলেন, হাসপাতালের বহি: বিভাগ থেকে গড়ে প্রতিদিন ৪শ টাকা। অথচ প্রতিদিন গড়ে টিকেট বিক্রি হয়েছে ১৫শর মধ্যে ১৪শ। বাকি একশ টিকেট দৈনিক ফ্রি দেয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মচারী, দু:স্থ ও হাসপাতালের জনবলদের। এবিভাগ থেকে রোগীরা এগারো টাকা দিয়ে টিকেট কিনে চিকিৎসাসেবা নেয়।

এরমধ্যে বিক্রিত প্রতি টিকেটের একটাকা দেয়া হয় হাসপাতালটির রোগী কল্যান সমিতিকে। এতে দৈনিক এক হাজার টিকেটের এক হাজার টাকা লোপাট করা হয় রোগী কল্যান সমিতিকে নাদিয়ে। উপরি হাতানোর এ চক্রের হোতা রেন্ট কালেক্টর খোকন। এব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা দৈণিক টিকেট বিক্রির হিসাব সংরক্ষণ করি এবং এতে অনিয়ম করার সুযোগ নেই। কিন্তু হাসপাতালের একাধিকসূত্র নাম অপ্রকাশের শর্তে বলেন, খোকন যুগ যুগ ধরে ঐ একই বিভাগে কর্মরত রয়েছেন ম্যানেজ প্রক্রিয়ায়। হাসপাতালের টিকেট বিক্রির টাকা পুরোমাত্রায় না পাওয়ার ব্যাপারে সমাজসেবা অফিসার হাসপাতালটিতে টিকিট বিক্রি থেকে আয়ের নির্ধারিত টাকা রোগী কল্যান সমিতিতে পুরো মাত্রায় না পৌছানোর ব্যাপারে রইচি আরো জানান, জরুরী বিভাগ থেকে আমাকে বলা হয় রোগীরা ভর্তির সময় ১ টাকা দেয় না।

এদিকে জরুরী বিভাগে দৈনিক প্রায় চারশ ছোট টিকেট বিক্রি হয়। এখানেও মাসে ৬শ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয় রোগী কল্যান সমিতিকে নাদিয়ে। জরুরী বিভাগ থেকে গত মে মাসে রোগী কল্যাণ সমিতিকে দেয়া হয়েছে ১১ হাজার ৪শ টাকা। অপরদিকে জরুজরী বিভাগে রোগী ভর্তির সময় সরকারি ২৬টাকার টিকেটের বিপরীতে হাতিয়ে নেয়া হয় ৪০/৫০টাকা। রোগী ও স্বজনদের ব্যস্ততা ও হতাশাকে পুজি করে কর্তব্যরত ব্রদাররা এহেন কর্মকান্ড করে।

দখিন জনপদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাস্থল হওয়ায় প্রায় প্রতিটি উপজেলা থেকেই রোগী আসে। এতে জরুরী বিভাগ থেকে দৈনিক প্রায় সাড়ে তিনশ রোগী ভর্তি হয় হাজার শয্যার এ হাসপাতালটিতে। এহিসেবে প্রতি চব্বিশ ঘন্টায় ভর্তির সময় রোগী প্রতি ব্রাদাররা তেরো টাকা বাড়তি হাতিয়ে নেয়।

এতে বছরে বছরে জরুরী বিভাগে ১৬লাখ ৩৮ হাজার বেশ খোলামেলাভাবেই হাতিয়ে নেয় ব্রদ্রাররা। এব্যাপারে জরুরী বিভাগের ইনচার্জ ব্রাদার কৃঞ্ষ বলেন, সরকারি ফি ২৬টাকা এবং এর বেশিতো নেয়ার কথা নয়।

অথচ শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসাধীন ওয়ার্ডগুলোতে ভর্তিকৃত অসংখ্য রোগীর সাথে ভর্তির বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে ২৬টাকার বেশি নেয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শেবাচিম হাসপাতালে সরকারি টিকেট বিক্রির টাকা নিয়ে লুটপাটের ব্যাপারে পরিচালক ডা: বাকির হোসেন বলেন, আমি এসেছি অল্প সময় হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দুর করতে হলে একটু সময় লাগবে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

CAPTCHA