প্লান বহির্ভূত ভাবে বরিশাল নগরীতে শতাধিক বহুতল ভবন

0
69

  *প্লানের অতিরিক্ত অংশ ভাংছেনা বিসিসি আরআই শাখা*
                     * মাটি উর্বরতা কম থাকায় ৬ তলার উপরে ভবন নির্মান*
            * প্লান বহির্ভূত নগরীর জর্ডনরোডে মিলিনিয়াম বিল্ডার্সের এ্যাস্টোরিয়া গার্ডেন*
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্লান বহিঃর্ভূত ভাবে ভবন নির্মান করে আসছে ভবন মালিকরা। নগর ভবনের প্লানিং শাখার অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে বিসিসি’র বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। নগরীর একাধিক ভবন মালিকরা বছরে হোল্ডিং ট্যাক্স পাঁচ হাজার টাকা করে এবং প্লান ছাড়া ভবন বারানোর জন্য প্রায় এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা ফাঁকি দিচ্ছে।

সুত্রে জানা গেছে, নগরীতে বছরে একতলা থেকে দশ তলা পর্যন্ত প্লান অনুমোদন দেয়া হয় ১৭ শ থেকে ২ হাজার টির। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশী ভবন মালিকরা অনুমোদন নেয় পাঁচ তলা থেকে দশ তলা পর্যন্ত। কিন্তু বিসিসি’র অনুমোদিত প্লানের চেয়ে হাফ কিংবা এক তলা বেশী নির্মান করে। এতে বছরে হোল্ডিং ট্যাক্স ফাঁকিদেয়ার পাশাপাশি জরিমানার টাকাও ফাঁকি দেয়।

এ ব্যাপারে বিসিসি’র হোল্ডিং ট্যাক্স শাখার চীফ এ্যাসোসর আজম জানায়, আবাসিক ও বানিজ্যিক এলাকা ভাগ করে হোল্ডিং ট্যাক্স ফি প্রতি স্কয়ার ফিট পাঁচ ও আট টাকা নির্ধারন করা হয়। এরপর শুনানীর শেষে একটি পাঁচ তলা ভবনের বাৎসরিক হোল্ডিং ট্যাক্স ফি দাড়ায় দশ থেকে বিশ হাজার টাকা। এদিকে হোল্ডিং ট্যাক্স ও বর্ধিত অংশ নির্মানের জন্য জরিমানা ফাঁকিবাজি ব্যাপারে অনুসন্ধান সুত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর জর্ডনরোডে এ্যাস্টোরিয়া গার্ডেন ভবনটি নির্মান করেন মিলিনিয়াম বিল্ডার্স নামের একডি ডেভলোপার কোম্পানী।

বরিশাল নগরীর মাটি উর্বরতা কম থাকায় ৬ তলার উপরে ভবন নির্মান করার সূযোগ নেই। কিন্তু মিলিনিয়াম বিল্ডার্সের প্রোপাইটর জাকির হোসেন মৃধা বিসিসির আইকে বৃদ্ধাআঙ্গুলি দেখিয়ে ৬তলার পরেও আরও ২তলা নির্মান করেন। সেখাটে দুইটি ফ্লাট নির্মান করেছেন। এর মধ্যে একটি বিক্রি করেছেন। মিলিনিয়াম বিল্ডার্সের প্রোপাইটর জাকির হোসেন মৃধা বলেন, আমার পরে প্লান করে নেব। আমরা করেছি তাতে কি হয়েছে। আমাদের বিষয় আমরাই দেখব।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপরীতে দুইটি ৯ তলা ভবনের প্লান অনুমোদন করা হলেও নিয়ম বহির্ভূত ভাবে দশ তলা নির্মান করেছে। এছাড়াও সদররোডস্থ হোটেল সেডোনা, বিবিড় পুকুর পাড়ে ইজি’র শো রুমের ভবন সহ পুলিশ লাইনস রোডে ক্ষোদ বিসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী’র ভবনটিও অনুমোদনের থেকে এক থেকে দেড় তলা বেশী অবকাঠামো নির্মান করা হয়েছে। বটতলা, মুন্সিগেরেজ, কাউনিয়া, রুপাতলী, চৌমাথা, ব্র্রাউন্ডকম্পাউন্ড, সদর রোড, কালিবাড়ি, ফকিরবাড়ি রোড এলাকা সহ এরকম প্রায় নগরীর প্রায় সব এলাকায়ই বহিঃভূর্ত ভাবে অনুমোদনের থেকে বেশী নির্মান করেছে ভবন মালিকরা।এদিকে বিসিসি’র প্রকৌশল বিভাগ থেকে জানা গেছে, প্লান অনুমোদনের ফির থেকে তিন গুন জরিমানা আদায়ের বিধান রয়েছে।

পাঁচ তলা ভবনের প্লান অনুমোদনে ভ্যাট ট্যাক্স ফি নূন্যতম ৫০ হাজার টাকার মত। সেখানে অনুমোদনের বেশী নির্মান করা হলে অর্থাৎ তিন গুন প্রায় দেয় লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করতে পারবে বিসিসি কতৃপক্ষ। বরিশাল নগরীতে বহুতল ভবন রয়েছে সহস্রাধিক। আর এসকল ভবন মালিকদের অধিকাংশরাই অনুমোদিত প্লানের থেকে বেশী বর্ধিত অংশ নির্মান করেছে। যা সম্পুর্ণই অবৈধ।দেখা গেছে পাঁচতলা ভবনের অনুমোদিত প্লান হলেও সাড়ে পাচতলা কিংবা ছয়তলা করে বর্ধিত করেছে ভবনগুলোয়।

সাত তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে ৮ তলা এবং ৮ /৯ তলা ভবন নির্মানের জন্য বিসিসি কতৃক প্লান পাশ করা হলেও ৯/১০ তলা এমনকি আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লোর করা হচ্ছে অগোচরে। পাঁচ তলার উর্ধে ৭ থেকে ১০ তলা ভবনের প্রায়গুলোয় আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লোর করা হয়েছে কিন্তু অনুমোদিত প্লানে তা কোথাও নেই। বিসিসি’র সংশ্লিষ্ট কতিপয়দের সাথে গোপন সক্ষতা গড়ে ভবনমালিকরা বিসিসি’র নির্ধারিত ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে গোপনেই অবৈধভাবে ইমারতনির্মান করে বর্ধিত করন করে এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

অভিযোগ ছাড়া ব্যবস্থা নেয়া হয় না বিসিসিতে সে কারনে নগরীতে অহরহ অনুমোদিত প্লানের বাইরে গিয়ে ভবনগুলোয় অতিরিক্ত অংশ বর্ধিত করাও নিয়মে পরিনত হয়ে আসছে। অনুসন্ধানে আরো দেখা গেছে,নগরীর প্রায়সকল বহুতল ভবনগুলোরই বর্ধিত করা হয়েছে। প্লানের বাইরে বর্ধিত করায় ভবন তার হিসাবো থাকে অজানায়। ফলে বর্ধিতাংশের প্রতি স্কয়ার মিটারের ভ্যাট ট্যাক্স থেকে বছরের পর বছর বিসিসি শতকোটি টাকার বেশী রাজস্ব হারাচ্ছে। সহস্রাধিক বহুতলভবন গুলোর মালিকরা তাদের ভবনের অংশ বর্ধিত করলেও ইমারত আইন অনুযায়ী ভবন নির্মানের অনুমোদিত প্লানের ফি’র তিনগুন বেশী জরিমানা আদায় করে বর্ধিত অংশ ভেঙে ফেলার বিধান রয়েছে।

এতে করে গড়ে ৫০ হাজার টাকা প্লানের ফি হলে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করতে পারবে বিসিসি কতৃপক্ষ। অনুসন্ধান সূত্রে আরো জানা গেছে,নগরীর সিংহভাগ ভবনগুলোয় অনিয়ন করে স্থাপনা নির্মান করেছে ভবন মালিকেরা। বিসিসি কতৃক পাঁচ তলা ভবনের প্লান অনুমোদন করে ৬ তলা কিংবা সাড়ে পাঁচতলা ভবন নির্মান করে ভাড়া দিয়ে আসছে। ভবন মালিকরা অবৈধভাবে ভবন নির্মান করে বাড়তি অর্থ আয় করলেও অনুমোদিত প্লান অনুযায়ী বর্ধিত অংশের ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আসছে। বিসিসি’র সড়ক পরিদর্শক (আর আই) সার্ভেয়ার দায়িত্বে থাকলেও তাদের কাজে সেচ্ছাচারিতায় দিনকে দিন অনুমোদনের বাইরে গিয়েও ভবন নির্মান হচ্ছে নগরীতে পাল্লা দিয়ে।

এতে করে বরিশাল নগরী ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাড়াচ্ছে নগরবাসীদের যেকোন মুহুর্তে বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও একাধিক প্রকৌশলী’র বক্তব্য। অপরদিকে অভিযোগ পাওয়ার পরে বিসিসি কতৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহন করার বুলি দিয়ে আসলেও বাস্তবে আদৌ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মাদ আনিসুজ্জামান জানায়, অনুমোদিত প্লানের বাইরে গিয়ে ভবনের অংশ বর্ধিত করন ইমারত নির্মান আইন বহির্ভূত হিসেবে গন্য হয়।আইন অনুযায়ী প্লান বহির্ভূত ভাবে স্থাপনা নির্মান করা হলে প্লানের নির্ধারিত ফি’র তিন গুন জরিমানা আদায় করার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া অনুমোদিত প্লানের বাইরে গিয়ে ভবনের অংশ বর্ধিত করনে ভূখণ্ডে অতিরিক্ত চাপ পরে এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। ভুমিকম্প কিংবা কোন ট্রাজেডি হলে বড় ধরনের প্রান নাশের আশংকাও বৃদ্ধি পায় এ কারনে। এ বিষয়ে প্রকৌশল বিভাগ সজাগ দৃষ্টিতে কাজ করে আসছে।

নতুন এ পরিষদে এখন পর্যন্ত সভা হয়নি প্রথম সভায় এ জন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে যাতে করে নগরবাসীদের ঝুকি এড়ানো সম্ভব হয়। বিসিসি’র প্লান সহকারী খাইরুল হাসান কাল্টু জানায়, বছরে প্রায় বরিশাল সিটিতে একতলা থেকে দশ তলা ভবন নির্মানের জন্য বিসিসি কতৃক ১৭ শ প্লান অনুমোদন হয়। অনুমোদনের থেকে বেশী নির্মান করা হলে ইমারত নির্মান আইন অনুযায়ী অনুমোদনের ফি’র তিন গুন জরিমানা আদায় সহ বর্ধিত অংশ ভেঙে ফেলার বিধান রয়েছে।

কিন্তু বরিশালের মাটির উর্বরতা কম থাকায় ৬ তলার পরে ভবন নির্মান করা সূযোগ নেই। কেউ বে-আইনীভাবে করে থাকে প্লান রিভাইজ করেও নেবার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই নিয়ম মেনে প্লান রিভাইজ করাটা সম্ভব নয়। কারন, কোন সরকারী প্রকৌশলীর ঝুকি নিয়ে রিভাইজ প্লানে স্বাক্ষর করতে হবে।

সেটা কেউ করবে না। তা প্লান রিভাইজ করা সম্ভব নয়। এজন্য বিসিসির আরআই শাখা নিয়ম বহিভূতভাবে ৬তলার পরেও যারা ভবন নির্মান করেছেন তাদেরকে জরিমানা বা বর্ধিত অংশ ভেঙে ফেলার বিধান আছে।