দক্ষিণাঞ্চলে আমন ধানের ফলন বেশি হলেও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত কৃষক

0
39

মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি, বরিশাল:- দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে সোনালী ধানের ঝিলিক। পাকা ধানের গন্ধে মাতোয়ারা কৃষক। প্রত্যাশিত ফলনে মুগ্ধ কৃষকের মুখে খুশির ঝিলিক। জমির অধিকাংশ ধান কাটেছে অনেকে।

ইরি মৌসুমে ধানের ফলন বেশি হলেও মধ্যসত্ত্বভোগীদের দৌরান্ত্যে ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না বরিশাল দক্ষিণ অঞ্চলের কৃষকরা। পাইকার, দালাল এবং মধ্যস্থভোগীদের দৌরাত্বের কারনে কৃষক রোদ্র, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তাদের কায়িক পরিশ্রমে ফলানো ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত। কৃষক ঋণ নিয়ে বেশি টাকা ব্যায় করে ভালো ফসল ফলাতে সক্ষম হলেও ধান বিক্রয় করে অনেক গরিব কৃষকই জমি চাষাবাদের ঋণের কিংবা সুদের টাকা পরিশোধ করতে পারছে না।

প্রবীন কৃষকরা মনে করেন ভারতীয় চাল বাংলাদেশে আমদানির কারনেই এ দেশের গরিব কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে সর্ব সময়ে বঞ্চিত থাকছে। দক্ষিণের বিভিন্ন হাটে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫শ’ টাকা। দক্ষিণঞ্চলসহ বরিশাল জেলার ৬ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের ভাল ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য নিয়ে শঙ্কিত কৃষকরা। উৎপাদন খরচসহ ধানের ন্যায্য দাম পাবেন কি-না এ ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।

তবে দক্ষিণের বড় বাজারে এখনো নতুন চাল (আমন) পৌঁছায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর বাজার, বানোরিপাড়ার বাজার, গৌরনদীর সরিকল বাজারসহ জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন ধান (আমন) মণপ্রতি ৫শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত ইরি মৌসুমে ধানের দাম যেরকম ছিল তেমনিই আমন মৌসুমে ধানের দর একই থাকায় কৃষকরা রয়েছেন হতাশায়।

বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের একাধিক কৃষকের সাথে আলাপকালে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হলেও ভালো নেই তারা। দাম অনেক কম থাকায় তাদের মুখে শুকনো হাসি ও হতাশার ছাপ। ধানের দাম যাতে বৃদ্ধি করা হয় এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জোরালো হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষক সেকান্দার মোল্লা জানান, এ বছর আমন ধানের আবাদ ভালোই হয়েছে। তবে ধানের দাম বর্তমানে বাজারে অনেক কম থাকায় কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।