আবার মুখোমুখি আলোচিত তিন প্রার্থী সরোয়ার-শামীম-ফায়জুল

0
62

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল-৫ (সদর) আসনটি দক্ষিণাঞ্চলে মর্যাদার আসন হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ এটি বরিশাল বিভাগীয় শহরে। ১৯৭৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কোনো জাতীয় নির্বাচনে এ আসনটিতে জয় পায়নি আওয়ামী লীগ। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট নিয়ে আলোচনায় ছিলেন তিন প্রার্থী- বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, আওয়ামী লীগের কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এবং চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফায়জুল করীম।

১০ বছর পর আবারও এই আসনে ভোটের মাঠে মুখোমুখি হচ্ছেন এ তিন নেতা। ১৯৯০-এর পট পরিবর্তনের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনগুলোতে বিএনপি প্রার্থীরা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থীর চেয়ে দ্বিগুণ ভোট পেয়েছেন। ফলে বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিতি পায় আসনটি। তবে ব্যতিক্রম ঘটেছে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে। ওই নির্বাচনে মজিবর রহমান সরোয়ার জয়ী হন মাত্র ৫ হাজার ৯০১ ভোটে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগে তখনকার নতুন মুখ জাহিদ ফারুক শামীম। বরিশাল-৫ আসনে ভোটের ফলাফল বিবেচনায় মজিবর রহমান সরোয়ার সব সময় প্রভাবশালী প্রার্থী। তিনি এ পর্যন্ত চারবার এমপি ও একবার সিটি মেয়র নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ছাড়াই জীবনে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন জাহিদ ফারুক শামীম। তার প্রাপ্ত ভোট তাক লাগিয়ে দিয়েছিল সবাইকে। এদিকে বরিশাল-৫ আসনে প্রাপ্ত ভোট বিবেচনায় তৃতীয় শক্তি হিসেবে গণ্য করা হয় ইসলামী আন্দোলনকে। সদর উপজেলার চরমোনাইয়ের পীর পরিবারের সন্তান মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফায়জুল করীম প্রার্থী হন এ আসনে। তিনিও ২০০৮ সালে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে আলোচনায় আসেন। ২০০৮-এর নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলে দেখা গেছে, মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৪ হাজার ৫৪২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাহিদ ফারুক শামীম পেয়েছিলেন ৯৮ হাজার ৬৪১ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফায়জুল করীম ২৭ হাজার ১৩৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকেন। এসব পরিসংখ্যানের হিসাবে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের জাহিদ ফারুক শামীমের প্রাপ্ত ভোট সবার কাছে ছিল বিস্ময়। তখন বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের ব্যবধান এতটা কাছাকাছি হওয়াটা সরোয়ারের ব্যর্থতা নাকি শামীমের বিশেষ যোগ্যতা- সে ঘোর এখনও কাটেনি এ আসনের ভোটারদের।

এ প্রসঙ্গে মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘২০০৮ সালে কর্নেল শামীম মূলত ছিলেন ওয়ান ইলেভেন সরকারের প্রার্থী। তার পক্ষে সেনাবাহিনী কাজ করেছে। তখন বিএনপিরও ছিল ক্রান্তিকাল। এখন আর সে অবস্থা নেই।’ দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর জাহিদ ফারুক শামীম প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আগের নির্বাচনের চেয়েও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পদ্মা সেতু, পায়রা বন্দরসহ অন্যান্য উন্নয়নের জন্য দক্ষিণাঞ্চলের সবক’টি আসনে এবার ধানের শীষ পরাজিত হবে।

বরিশাল-৫ আসনে তৃতীয়বারের মতো প্রার্থী হয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফায়জুল করীম। বিগত নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে দলটি এ আসনে তৃতীয় শক্তি হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তার জয়ে দৃঢ় আশাবাদী দলটির নেতাকর্মীরা।