ভোটের আভাস, বরিশাল-৩ আদানুন খেয়ে ভোটযুদ্ধের মাঠে প্রার্থীরা

0
29

 

রফিকুল ইসলাম রনি:- দিন পিছিয়ে যতো যাচ্ছে ততই লুহাওয়ায় ভেসে আসচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী ভোটের গন্ধ। নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতীক নেতাদের আনাগোনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রার্থীদের পদচারনায় মুখরিত বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন নির্বাচনী এলাকার জনপদ। কেউ কেউ হারানো আসন ফিরে পেতে মনের মধ্যে জমাট বাধা পুরোনো ঝাল মেটাতে আসনটিতে সকাল থেকে রাত্র পর্যন্ত ব্যাবক গণসংযোগ পথসভা করছেন কর্মীদের নিয়ে।স্পটে স্পটে করছে স্ব স্ব দলের প্রার্থীরা নির্বাচনী পথসভা-জনসভা ও বাড়িতে বাড়িতে করছে উঠান বৈঠক। আসনটিতে মহাজোট থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির বর্তমান এমপি শেখ টিপু সুলতান ও জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু এ দুই জন প্রার্থী দেয়ায় সমস্যার জট বেধেছে। তাই আসনটিতে জাতীয় পার্টি আছে কায়দায় এবং ওয়ার্কার্স পার্টি আছে বেকাদায়। তাদেরকে ক্ষমতাশীল আওয়ামী লীগ মহাজোট থেকে প্রার্থী ঘোষনা করেছে। এদিকে এ আসনে বিএনপির অবস্থান এলোমেলো। তাদেরকে ততোটা নির্বাচনী এলাকাতে প্রচারনা ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছেনা। আর মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ টিপু সুলতানকে এ আসনে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছে। এবং গোলাম কিবরিয়া টিপু দলীয় প্রতীক নাঙ্গল নিয়ে মহাজোট থেকে এ আসনের নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। মহাজোটের এ দুই দলের প্রার্থী ছাড়াও এ আসনে বিএনপি থেকে ধানের শিষ প্রতীক নিয়ে লড়বেন এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীক নিয়ে লড়বেন কেন্দ্রীয় যুবমৈত্রীর সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম হাত পাখা প্রতীক নিয়ে লড়বেন।

ফিরে আসা দিনগুলো- ৩০০ আসনের সিমানা পুনঃনির্ধারনের পরে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের নির্বাচনী এলাকায় মহাজোটের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে অন্যতম শরীকদল জাপা‘র প্রেসেডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু লাঙ্গল মার্কা নিয়ে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। সেবছর গোলাম কিবরিয়া টিপুর সাথে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিল বিএনপির মনোনিত প্রার্থী কেন্দ্রী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান। সেই নির্বাচনে একই আসনে বিএমপির বিদ্রোহি প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র মার্কা নিয়ে আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিল দলটির সিনিয়ার নেতা এ্যাডঃ জয়নুল আবেদীন। ফলে ঐ বছর বিএমপির ভরাডুবি হয় আসনটিতে । এরপর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে জাপা এবং ওয়ার্কার্স পার্টি উভয় দলই মহাজোটের মনোনয়ন পেতে প্রত্যাশি ছিল। কিন্তু বিধিবাম, মহাজোট উভয় দলের কোন প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেয়া হয়নি আসনটিকে উম্মাক্ত করে দেয়া হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে মহাজোটের শরীকদল ওয়ার্কার্স পার্টির বরিশাল জেলার সাধারন সম্পাদক এ্যাডঃ শেখ মোঃ টিপু সুলতান নিজ দলের মনোনয়ন নিয়ে দলীয় প্রতীক হাতুরি মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী জাপার গোলাম কিবরিয়া টিপুর সাথে। জাপার গোলাম কিবরিয়া টিপু সেবছর দলীয় প্রতীক লাঙ্গল মার্কা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে দশম সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করতে পারেনি। তখন নির্বাচনে জয় লাভ করে সাংসদ নির্বাচিত হন এ্যাডঃ শেখ মোঃ টিপু সুলতান।

জনমত জরিপে দেখাগেছে, নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনে জনগন যেমনি ম্যান্ডেটের মাধ্যমে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে জবাব দিয়েছিলো ঠিকতেমনি একাদশ সংসদ নির্বাচনেও এ আসনটিতে ওয়ার্কার্স পাটির বর্তমান সাংসদকে জনগন ব্যালটেরমাধ্যমে উপযুক্ত জবাব দিবে বলে জানায়। তাই হারানো আসন ফিরে পেতে মরিয়া উঠেছে জাতীয় পার্টি। এদিকে আদানুন খেয়ে ভোটযুদ্ধের মাঠে নেমেছে প্রার্থীরা। স্ব স্ব দলের নেতারা ডেলে সাজাচ্ছে বাবুগঞ্জ-মুলাদীর উপজেলা থেকে শুরু করে তৃনমুল পর্যায়ের কমিটিগুলোকে। আসনটিতে দেখাগেছে, বিএনপির ছেড়া পাল, আওয়ামী লীগে নেই ত্যাগি নেতা, ওয়ার্কার্স পার্টি নরবড়ে, সে লক্ষ্যে জাতীয় পার্টি আছে ভালো অবস্তানে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের মনোনিত প্রার্থী হতে পারা ৯০ ভাগই ক্ষিন সম্ভাবনা ওয়ার্কার্স পার্টির। হিসাবমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবছর এ আসনটিতে মহাজোটের মনোনয়ন পেতে শতভাগ সম্ভাবনাই রয়েছে যাপার। তাই জাতীয় পার্টি আসনটিতে বাতাস বুজে পাল তুলছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহনে অন্যান্য দলের প্রার্থীর তুলনায় জাতীয় পার্টির প্রার্থীই শক্ত অবস্থানে আছে আসনটিতে ।
আসন বিন্যাস: স্বাধীনতা উত্তরকালে বাবুগঞ্জ উপজেলাকে নিয়ে হরিলুটের বাতাসা খেলা খেলেছিল নির্বাচন কমিশন। এক এক সময় এক একটা নির্বাচনী সিমানায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল বাবুগঞ্জ উপজেলাটিকে। এক সময় ছিল বরিশাল-১ আসনের সিমানায়, পরে হয় বরিশাল-২ আসনের সিমানায় এবং বর্তমানে আছে বরিশাল-৩ আসনের সিমানায়।

ফিরে দেখা: বাবুগঞ্জ মুলাদী উপজেলাকে বরিশাল-৩ আসন হিসেবে ঘোসনা করার পর থেকে আসনটিতে জাতীয় পার্টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীই জয় লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচীত হয়ে আসছে। আর বড় দুই দল আয়ামী লীগ ও বিএনপি‘র কোনো প্রার্থীই এ আসনটিতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেনি। বাবুগঞ্জ উপজেলাটি বরিশাল-১,২,৩ আসনের নির্বাচনী সিমানায় থাকা কালীন পর্যায় ক্রমে সাংসদ ছিলেন আওয়ামী লীগ থেকে হরনাত বাইন, ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক ও ওয়াদুদ খান, ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে রাশেদ খান মেনন ও বর্তমান সাংসদ এ্যাডঃ শেখ মোঃ টিপু সুলতান, জাতীয় পার্টি থেকে গোলাম ফারুক অভি, গোলাম কিবরিয়া টিপু, বিএনপির মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। উল্লেখ্য ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল-১ ও বরিশাল-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে ছিলো দক্ষিন বাংলা রাজনৈতিক অভিভাবক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। অন্যদিকে বিএমপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সেবছর বরিশাল-২ আসনে (বাবুগঞ্জ-উজিরপুর) এলাকায় ধানের শীষ প্রতীক জয় লাভ করে সংসদ প্রতিনিধি নির্বাচীত হয়। পরবর্তি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনী এলাকার সিমানা পুনঃনির্ধারন হলে বাবুগঞ্জ উপজেলাটি বরিশাল-২ আসন থেকে বিচ্ছিন্ন করে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) বর্তমান আসনের সিমানাভুক্ত করা হয়। সিমানা পুনঃনির্ধারনের পর থেকে এযাবত মহাজোটের শরীক দলই আসটিতে ধারাবাহিক ভাবে জয়লাভ করে আসনে।