জমজমাট প্রচারণায় নৌকা-হাতপাখা, নীরব গণসংযোগে বিএনপি

0
46

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে নৌকা ও হাতপাখার জমজমাট প্রচারণা চললেও নীরবে গণসংযোগ চালাচ্ছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বিএনপি তাদের প্রচার-প্রচারণায় বিভিন্ন স্থানে বাধা দেয়ার অভিযোগ করলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বলছেন, বিএনপির প্রচারণায় কোনো স্থানেই বাধা দেয়া হচ্ছে না। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তারা এসব অভিযোগ করছেন বলে দাবি আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের। বরিশালে বেলা ২টার পর থেকেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে পুরোদমে প্রচারণায় নামা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে।

করা হচ্ছে মাইকিং, সরকারের উন্নয়নমূলক চিত্র গানের মাধ্যমে প্রচারণা করা হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। বরিশাল-৫ আসনে (সদর) আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, দেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা চাই দেশ উন্নয়নের শিখরে পৌঁছে যাক। তাই এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে পুনরায় আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। সরকার যে উন্নয়নমূলক কাজগুলো করছে, সেগুলো আমরা তুলে ধরছি জনগণের কাছে। এবার বরিশালে প্রায় আড়াই লাখ নতুন ভোটার রয়েছে। তারা নৌকার পক্ষেই ভোট দেবে বলে আমার আশা। কেননা এই নতুন সমাজ দেশের উন্নয়ন চায়। তারা দেখেছে আওয়ামী লীগ কী করতে পারে। আমি মনে করি, বরিশালের মানুষ আওয়ামী লীগের পক্ষে রায় প্রদান করবে। এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকেরও প্রচারণা চলছে পুরোদমে। এ সংগঠনটি বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীরা গণসংযোগ করছেন বিভিন্ন এলাকায়। এছাড়াও পরিবহনে করে মাইকিং করা হচ্ছে ইসলামের পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল-৫ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে হাতপাখার বিজয় ঠেকানো সম্ভব নয়। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে আমরা কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করেছি। মানুষ যাতে সুন্দরভাবে ভোট দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিজয়ী হলে দেশের উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা পালন করা হবে। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশকে উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে তৈরি করা হবে। আমরা হাতপাখার পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছি। আমরা জনগণের দোরগোরায় পৌঁছে তাদের কথা শুনছি এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করব বিজয়ী হলে। অপরদিকে বরিশালে বিএনপির প্রার্থীদের প্রচারণায় তেমন কোনো রং লাগেনি। গণসংযোগও করছেন গোপনে গোপনে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার বলেন, বিএনপিকে মাঠে উঠতে দিচ্ছে না পুলিশ। গণগ্রেফতার করছে, যেটা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। উঠোন বৈঠকে বাধা দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামরা চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে প্রচারণা চালানো অনেকটা কষ্টকর। এদেশের মানুষ এই সরকারকে চায় না। সেই ভয়টাই পাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল। তাই তারা আমাদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন। বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, আমরা আতঙ্কিত। আমার রাজনৈতিক জীবনে নির্বাচনের আগে এমন গণগ্রেফতার দেখিনি। বরিশালের ২১টি আসনের মধ্যে ১৮টিতেই বিএনপি প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারছেন না। তাদের নানাভাবে হুমকিধমকি দেয়া হচ্ছে। বরিশাল-৪ আসনের প্রার্থী ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলায় এখন হাসপাতালে ভর্তি। এছাড়া বরিশাল-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টুর গাড়িবহরেও হামলা চালানো হয়েছে, বরিশাল-৩ আসনে মহাজোটের প্রার্থী আমাদের প্রার্থীর বেশ কয়েকটি নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর করেছেন।

হামলায় আহত হয়েছেন অর্ধশত নেতাকর্মী। এ অবস্থায়ও প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। বরিশালে প্রচার-প্রচারণায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে নৌকা ও হাতপাখা। জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের তেমন মাঠে দেখা যায় না। কিছু আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পাল্লা ভারি থাকায় সেখানে মহাজোট এবং বিএনপির প্রার্থী কোণঠাসা অনেকটাই।