রাজনীতির নিপুণ শিল্পী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম…

0
19

সোহেল সানি // রাজনীতির অন্তর্জালে কেউ কেউ হয়ে ওঠেন মৃত্যুর নিপুণ শিল্পী। আবার কেউ কেউ হয়ে ওঠেন রাজনীতিরই নিপুণ শিল্পী। এমনই এক নিপুণ শিল্পীর নাম সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আমরা প্রত্যক্ষ করিমৃত্যুর নিপুণ শিল্পী ইয়াহিয়ার এক একটি ফ্রিজ শট একাত্তরের বর্বরতার নথিপত্রে। পাশাপাশি ‘রাজনীতির কবি’ বলে খ্যাত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানেও রাজনীতির নিপুণ শিল্পী হয়ে ওঠা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানের সহমরণের মর্মস্পর্শী অধ্যায়ের যে সন্নিবেশ তা মহান মুক্তিযুদ্ধের অমর কাব্যগাঁথায় মর্মস্পর্শী এক বিয়োগফল।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে ইতিহাস সমগ্রের রচনাকারী উপরোক্ত চার নেতা। এমনই এক নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের স্বনামধন্য পুত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুর খবর শুনার পর তাঁর মহান পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের প্রতিচ্ছবি আমার দৃষ্টির আয়নায় ভেসে উঠছে। ১৯৬৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় ওয়ার্কিং কমিটির সভা। সভাটি তর্কবাগীশের বাসভবনেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান ওই সভায় বলেছিলেন, “কায়েমী স্বার্থবাদীরা আওয়ামী লীগকে পূর্বপাকিস্তানে কোণঠাসা করেছে, ভবিষ্যতে এমন ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে যা কেবল আওয়ামী লীগকেই করতে হবে। সে কারণে প্রস্তুত হতে হবে সব ধরণের ত্যাগের জন্য।” ওই বছরই ১৭ জেলার কাউন্সিল শেষে ঢাকার হোটেল ইডেন চত্বরে ৬ ও ৭ মার্চ প্রাদেশিক কাউন্সিল ডাকা হয়।

নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি নবাবজাদা নসুরুল্লাহ খানের উদ্বোধনে কাউন্সিলে তর্কবাগীশকে সভাপতি ও শেখ মুজিবকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে গঠন করা হয় পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী লীগ। তিন মাসের ব্যবধানে অর্থাৎ “৬৪ সালের ৫ জুন ওয়ার্কিং কমিটির জরুরী সভায় শেখ মুজিব উত্থাপন করেন ১১ দফা। যে ১১ দফাই মূলত ‘৬৬ সালের ৬ দফার ভিত্তিমূল। এই সময় হতেই আওয়ামী লীগ কঠিন সংকটে নিপতিত হয়। মূলত, ” ৫২, “৫৪, ” ৬২ এর ছাত্র গণআন্দোলনের পর “৬৫ এর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধই বাঙালীদের চোখ খুলে দেয়। ” ৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী লাহোরে নেজামে ইসলাম সভাপতি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে পাকিস্তানে বিরোধী দলের করনীয় নির্ধারণে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ৬ দফা আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় ওদিনই শেখ মুজিব লাহোরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণা করেন। তিনি ১৩ মার্চ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে অনেক নেতার বিরোধিতার মুখে ৬ দফা অনুমোদন করিয়ে নিতে সক্ষম হন। দলীয় সভাপতি মওলানা তর্কবাগীশ কতিপয় অনুসারী সহকারে বৈঠক বয়কট করেন। শেখ মুজিব “৬৬ সালের ১৮ ও ১৯ মার্চ ঢাকার ইডেন হোটেল চত্বরে দলীয় কাউন্সিল আহবান করেন এবং নিজে দলীয় সভাপতির পদ অলংকৃত করেন। সৈয়দ নজরুল ইসলামকে সিনিয়র সহ সভাপতি ও তাজউদ্দিন আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। শেখ মুজিব গ্রেফতার হলে শুরু হয় নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পালা।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হচ্ছে সেই ইতিহাসের মন্ত্রতন্ত্র হিসাবে প্রধান উপাদান। শেখ মুজিবের অবর্তমানে ওই কঠিনতম অধ্যায়ে দলের হাল ধরেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। সৈয়দ নজরুলের অধীনে আওয়ামী লীগের সুকঠিন নেতৃত্ব ও ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে ছাত্রসমাজের গণঅভ্যুত্থান ” ৬৯ এর ২১ ফেব্রুয়ারী লৌহ মানব সামরিক শাসক আইয়ুব খানের কারাগার থেকে শেখ মুজিব বেরিয়ে আসেন। শাসকজান্তা মুক্তি দিয়েই শুধু পার পাননি তাকে জেনারেল ইয়াহিয়ার কাছে রাষ্ট্রের গদি ছেড়ে দিতে হয়। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে বঙ্গবন্ধুরই নির্দেশিত পথে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার এক ঐতিহাসিক ভুমিকা পালন করেন। “৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর সহচররা একে একে প্রায় সকল খুনী মোশতাকের মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করলেও সৈয়দ নজরুল ছিলেন ব্যতিক্রম।

 আশরাফ নামের অর্থ অভিজাত বা সম্ভ্রান্ত। অথচ, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জীবনের বাস্তবতায় তা ছিলেন না। ছিলেন না রাজনীতির বাস্তবতায়। তাঁর জীবদ্দশায় রাজনীতির বাস্তবতা হলো, রাজনীতি হলো একটা ব্যবসা। সেই ব্যবসার বিরুদ্ধে সৈয়দ আশরাফ রাজনীতির সংগ্রাম করেছেন। “৫২’র সংগ্রামমুখ বছরে জন্মগ্রহণকারী এক কন্যা সন্তানের জনক সৈয়দ আশরাফ পিতারও যোগ্য উত্তরসুরী ছিলেন। বিশেষ করে বিপ্লব স্পন্দিত বুকে পিতার ন্যায় নিজেকেই ” মুজিব” চরিত্রের মনে করতেন। সে কারণেই শেখ মুজিব কন্যা শেখ হাসিনার চরম সংকটকালীন বিশিষ্ট ভুমিকায় অবতীর্ণ হতে পেরেছিলেন। “৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন গ্রহণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও তাঁর রাজনৈতিক সংবেদনশীল চরিত্রটি গড়ে ওঠে ব্রিটনীদের গণতন্ত্রী মূল্যবোধে। ” ৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের হাতেই পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম নিহত হলে চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে দেশত্যাগ করেন সৈয়দ আশরাফ। তাঁর দেশ ত্যাগের ইতিবৃত্ত ঘটনাবহুল।

“৬৯ সালে অগ্নিমুখর দিনগুলোতে পালন করেন ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। ” ৭৪ সালের ছাত্রলীগের সম্মেলনে নির্বাচিত হন সহপ্রচার সম্পাদক। “৯৬ সালের সপ্তম সংসদের সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিমন্ত্রী নিযুক্তি হওয়ার মাধ্যমে সরকারের লাইম লাইটে উঠে আসেন। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর ধানমন্ডির ৫ নম্বর সড়কের ২৪ নম্বর বাড়ির এ-৩ নম্বর ফ্লাটে উঠেছিলেন। ওই সময়েই তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়। তাঁর ভাগিনা তারেক ছিলেন বাংলাবাজার পত্রিকার কর্নধার মোহাম্মদ জাকারিয়া খানের ভাই ইয়াহিয়া খানের মেয়ের জামাই তারেক। তার মাধ্যমে ক্রমে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠি। “০১ সালের ১অক্টোবরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়ের পর আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিশেষ সহানভূতিলাভ করি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার উপকমিটির সদস্য হিসাবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নজরে পড়ি। তাঁর মেধা ও অসাধারণ প্রতিভার দেখা মেলে নানা কথাবার্তায়। তাঁকে তখন মনে হতো অনলবর্ষী এক আলোচক। বিশ্বরাজনীতির সঙ্গে যেন তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র। মাঝে মাঝে বিস্মিত হয়ে যেতাম। ‘০২ সালের ২০ জুন তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাতকার প্রকাশিত হয় বাংলাবাজার পত্রিকায়।

ওই সাক্ষাতকারটি পড়ে বেশ কয়েকজন নেতা আমাকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মুগ্ধ করেছিলেন। জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম খুব সকালেই ফোনে আমাকে ঘুম হতে জাগিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার উভয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ অনেক বছর আগেই মহাপ্রয়াণে। আর সৈয়দ আশরাফও আজ নেই। কিন্তু আমার নেয়া সাক্ষাতকারটির শ্রুতিমধুর ভাষার ভুয়সী প্রশংসা করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যে ক’টি শব্দের ব্যবহার করেছিলেন তন্মধ্যে একটি শব্দ ছিলো ‘চমৎকার।’আজ যখন লিখছি তাঁর মৃত্যুর বার্তাটি পেয়ে তখন তাঁকে ঘিরে অনেক বিশেষ ঘটনাই মনে পড়ছে। সদালাপী সুদর্শন আশরাফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে বিশেষ যোগ্যতা প্রদর্শনের সুবাদে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল ও এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গ্রেফতার হওয়ার পর দ্বিতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে সৈয়দ আশরাফ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পদে অবতীর্ণ হন। উত্তীর্ণের আগেই তিনি লন্ডনে চলে যান। তৃতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মুকুল বোস ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন হলে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংকট প্রকটভাব রূপ নেয়। দলের সংকটে সৈয়দ আশরাফ কেটে পড়েছেন এমন গুঞ্জন চলাকালীন শেখ হাসিনা গ্রেফতার হন। ঠিক এই সময়েই দেশে ফেরেন সৈয়দ আশরাফ। ফলে মুকুলের অবসান ঘটে। বর্ষিয়ান জননেতা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দলের হাল ধরেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ‘০২ সালের কাউন্সিলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হওয়া সৈয়দ আশরাফের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে তোলে। ফলে আব্দুল জলিল কারাগার হতে বেরিয়ে এলেও স্বপদে আর ফিরতে পারেননি। সংসদ সদস্য হলেও ঠাঁই পাননি মন্ত্রী পরিষদে। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পদে থেকেই সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এলজিআরডি মন্ত্রী হিসাবে নিযুক্ত হন এবং ‘০৯ সালে দলের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তী কাউন্সিলেও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে জননেত্রী তাঁর প্রতি আবারও আস্থা ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলন শুধু নয়,’০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের ঐতিহাসিক বিজয়ের নেপথ্যেও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অনবদ্য ভুমিকা ছিলো। একটা কথা না লিখলেই নয়। ২০০৯ সালের ১৬ মার্চ প্রকাশের দ্বিতীয় দিবসে বাংলাদেশ প্রতিদিন আওয়ামী লীগের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলের একটি বিশেষ সাক্ষাতকার প্রধান লিড আইটেম হিসাবে প্রকাশ করে। আমারই নেয়া ওই সাক্ষাতকারটির লাল হরফে শিরোনাম ছিলো, ” সৈয়দ আশরাফ ব্যর্থ বললেন জলিল”।

তোলপাড় করা ওই সাক্ষাতকারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ব্যর্থতার ফিরিস্তি তুলে ধরেছিলেন। আমারও অফিসে কদর বেড়েছিল। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম থেকে ক’দিন আমি দূরে ছিলাম। হঠাৎ আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে সম্মুখে পড়ে যাই। দেখেই সহাস্যে তিনি পিঠ চাপড়িয়ে বলেছিলেন, দেখি না কেন? আসলেই বড় মনের মানুষ ছিলেন তিনি। ছিলেন নেতৃত্বগুণমুগ্ধ ব্যক্তিত্ব।মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধে চির জাগরুক এ মুক্তিযোদ্ধার আসলে মৃত্যু নেই। পিতার ন্যায় আমরণ বঙ্গবন্ধুতে মিশে গিয়েছিলেন। এলজিরআরডি মন্ত্রণালয় হাতছাড়া হওয়ার পর কষ্ট পেয়েছিলেন। কষ্টপ্রশমনের জন্য লন্ডন চলে যাচ্ছিলেন। মমতাময়ী বোন শেখ হাসিনার সাড়ায় বিমানবন্দর হতে আবার ফিরে আসতে হয় সৈয়দ আশরাফকে। তারপর তাঁর হাতের মুঠোয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মৃত্যুর অবধি পর্যন্ত। রাষ্ট্রপতি পদেও তাঁর নাম আলোচনায় উঠে আসে। আরও কত কি। এবারের নির্বাচনের আগেপরে তাঁকে থাকতে দিলো না মরণব্যাধী ক্যান্সার। ফুসফুসে ক্যান্সার। যে ক্যান্সারে আমার পিতাও পরলোকে চলেগেছেন তেইশ বছর আগে। রাজনীতির আকাশ থেকে উজ্জ্বল এ নক্ষত্রের বিলোপ নেই । নেই তাঁর সত্যনিষ্ঠার মৃত্যু। তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী।