আর এক ইঞ্চি মাটিও ভাঙতে দেব না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

0
73

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ প্রধানমন্ত্রী বরিশালের বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন প্রতিরোধের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বলেছেন, ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) বরিশাল সিটি করপোরেশনের বেলতলা এলাকায় প্রতিমন্ত্রী স্থাপিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ভাঙনকবলিত বেলতলা, চরবাড়িয়া, লামছড়ি, জনতারহাট এবং চরকাউয়া এলাকা পরিদর্শন করেন। এছাড়াও কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন জাহিদ ফারুক শামিম। এ সময় গণমাধ্যম কর্মীদের নানা প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় বিভিন্ন পথসভায় তিনি বলেন, ছোট বেলায় তিনি যখন সদর উপজেলায় যেতেন, তখন নদী ভাঙনকবলিত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখে তাদের জন্য কিছু করার কথা ভাবতেন।

সৃষ্টিকর্তার মেহেরবানীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সেই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। এখন মানুষের দুঃখ-দুর্দশা রোধে নদী ভাঙন প্রতিরোধে তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন। নির্বাচনকালে তার দেয়া প্রতিশ্রুতি স্মরণ করে তিনি বলেন, বরিশালকে একটি ‘মিনি সিঙ্গাপুরে’ পরিণত করার জন্য সকলের সহযোগিতা এবং দোয়া কামনা করেন মন্ত্রী। আগামী কয়েক বছরে পদ্মা সেতু, পায়রা বন্দর, ফোরলেন রাস্তা ও রেললাইন দৃশ্যমান হবে। বরিশালে আসবে ভোলার গ্যাস। “এরপরই বরিশালে আমূল পরিবর্তন চোখে পড়বে। সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নকে শহরে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি পুনরোল্লেখ করেন বরিশাল সদর আসনের এই সংসদ সদস্য।” পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিম বলেছেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন ও দুঃখ লাঘবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় চিন্তা করেন। আর সেই চিন্তা থেকেই আমার মতো একজন সাধারণ মানুষকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। এ জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই এলাকায় কোনো নদী ভাঙন হবে না বলে আমি নির্বাচনের আগে আপনাদের কাছে ওয়াদা করেছিলাম। আমি আর এক ইঞ্চি মাটিও ভাঙতে দেব না। তাই এমপি এবং প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথমে বরিশালে এসেই এই নদী ভাঙন দেখতে এসেছি। আমি আমার কথা রেখেছি।’ আগামী বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ১৫ ফেব্রুয়ারি কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হবে এবং তা কোনো ভাবেই ১৫ তারিখের পরে যাবে না। এমনকি এক ঘণ্টাও দেরি হবে না বলেও জানান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

জাহিদ ফারুক শামিম বলেন, ‘আমি যখন এই সদর উপজেলায় আসতাম, আর যখন নদী ভাঙন দেখতাম, আমার খুব কষ্ট হতো। ভাবতাম, এই এলাকার মানুষের কষ্ট কবে দূর হবে? আমি এদের জন্য কাজ করতে চেয়েছি। আল্লাহ আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আজ সকাল থেকেই ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। তাদের কষ্ট দেখেছি, তাদের কথা শুনেছি। আমি তাদের আশ্বাস দিয়েছি। এই বর্ষা মৌসুমের আগেই নদী ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করব। এই ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে খুলনা শিপইয়ার্ডকে। তারাও এখানে এসেছেন।

এছাড়াও কাজের মান সঠিক রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, খুলনা শিপিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মো. আনিছুর রহমান মোল্লা, মহাব্যবস্থাপক (ডিজাইন অ্যান্ড প্ল্যানিং) ক্যাপ্টেন ফারুক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশরী জুলফিকার আলী হাওলাদার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রমজান আলী প্রামাণিক, বরিশাল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।