বরিশাল নগরীর চাঁদমারীতে নিষিদ্ধ জুয়া!

0
63

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ব্যস্ততম এলাকা চাদমারীতে সিদ্দুকুর রহমান টাওয়ারের ২য় তলায় ও ৩য় তলায় অসহায় মুক্তিযুদ্ধা পুর্নবাসন ক্লাবের আড়ালে চলে এ অসামাজিক কর্মকান্ড। তবে পুরো ব্যাপারটিতে কোতয়ালী পুলিশ জেন জেগে ঘুমিয়ে আছে।ঐ এলাকায় এ বিষয়টি জানে সবাই।তবে কেউ মুখ খোলে না।সাবেক পুলিশ কমিশনার এস এম রুহুল আমিনের দায়িত্বশীল ভুমিকায় নগরী থেকে এসব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি বদলী হবার পর আবারো নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চলছে এসকল ব্যবসা।জানা গেছে প্রতিদিন রাতে ঐ ভবনে বসে জুয়ার কোট।নগরীর মধ্য থেকে বিভিন্ন এলাকা এবং বরিশালের প্বার্শবর্তী বাকেরগন্জ বরগুনা থেকে আসে লোক।বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রাখতে এবং অবাধ ব্যবসা পরিচালনা করতে কোতয়ালী থানা পুলিশ ও ডিবিকে দেয়া হয় মোটা অংকের টাকা।ফলে তারাও থাকে চুপচাপ।নগরীতে সাদিক আবদুল্লাহ মেয়র হবার পর কিছু ভাল কাজ করে মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন।

কিন্তু এভাবে যদি নগরীতে যাত্রা জুয়া শুরু হয় তাহলে তার গলার কাটাও হয়ে দাড়াতে পারে এগুলো। তাছাড়া সরকার সারা দেশে জুয়া মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করলেও বরিশালের মত শান্তির নগরীতে এমন কার্যক্রম সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অপচেষ্টা বলে মনে করছেন সচেতন মহল।সবচেয়ে অবাক বিষয় হচ্ছে অসচ্ছল মুক্েিত্যাদ্ধা পুনরৃবাসন কেন্দ্র নামে ঐ বাসার ২য় ও ৩য় তলা ভাড়া নেয়া হলেও ঐ স্থানে চলে জুয়ার আসর।

এলাকাবাসী জানায় রাত ১২টার দিকে বিএনপি নেতা কামরুল,তোতার নেতৃত্বে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসে জুয়ারীরা।একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় ঐ বাসা থেকে কামরুলকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ,এ সময় দুলাল,কবির,তোতা পালিয়ে যায়।পরে প্রশাসন ম্যনেজ করে পুনরায় চালু হয়েছে এ ব্যবসা।সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর গুড ইমেজকে বেকায়দায় ফেলতে ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতার নেতৃত্বে চলছে এখন জুয়ার ব্যবসা। মিডিয়া ডিলের দ্বায়িত্বে থাকা জুয়ারু কবির জানান বরিশালের বেশ কিছু মিডিয়ার সাথে তাদের যোগাযোগ রয়েছে।ফলে কেউ পত্রিকার লেখেনা।অন্য একটি সুত্র জানায় প্রতিরাতে থানায় পৌছে যায় খাম।এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে পুলিশ,ডিবি,র‌্যাব এর অসাধূ কিছু কর্তারা এসে বিটমাণি নিয়ে যায়।এ বিষয়ে আলাপ করা হয় কোতয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলামের সাথে তিনি জানান,বিষয়টি তিনি জানেন না।তিনি অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন।

এ বিষয়ে র‌্যাপিড এ্যকশন ব্যটালিয়ন র‌্যাবের সিও আতিকা ইসলাম জানান,মাদক জুয়া এ ব্যাপারে আমরা সবসময়েই সচেতন।যদি নগরীতে এ ধরনের কর্মকান্ড ঘটে থাকে তাহলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অন্যদিকে নগরীতে ফের জুয়া চালু হওয়ায় ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সুশীল সমাজ। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বরিশাল মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আবু মাছুম ফয়সাল জানান, যুব সমাজকে ধ্বংশের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে এই জুয়া। জুয়া খেলে রাতে জখন বাড়ি ফেরে কেউ থাকে খোশ মেজাজে আবার কেউ বা থাকে হতাশা গ্রস্ত। ফলে বেরে যায় সামাজিক অবক্ষয়। সাবেক পুলিশ কমিশনারের দৃঢ়চেতা মনোভাবে নগরী থেকে এগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

পাশাপাশি বর্তমান মেয়র মহোদয় ঘোষনা দিয়েছিলেন নগরীতে কোন জুয়া তিনি চলতে দেবেন না। কিন্তু এখন যদি পুনরায় চালু হয় তাহলে দুঃখ্য জনক। অবিলম্বে প্রশাসনের নিকট এ জুয়া বন্ধের দাবী জানান তিনি। নতুবা যুবসামজকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের ঘোষনা দেন তিনি।

বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সচেতন নাগীরক কমিটি সনাকের আহ্বায়ক মানবেন্দ্র বটব্যাল জানান, জুয়া হচ্ছে একটি সর্বনাশার অধ্যায় সামজের জন্য। এখনি যদি এগুলো বন্ধ করা না যায়। তা হলে আমাদের কে আবারো ২০১০ সালের গড়িয়ার পাড়ের দিকে ফিরে যেতে হবে।

বর্তমান মেয়র মহদয় যদি এব্যাপারে ব্যবস্থা না নেন তাহলে এর দায়বার তার কাধেও উঠবে। এগুলো প্রতিরোধ করতে অভিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহীনী সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন কে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।