নগরীর চাঁদমারীতে মুক্তিযোদ্ধার ব্যানারে আ.লীগ-বিএনপির মদ-জুয়ার আসর অব্যাহত

0
55

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধার নামকে সামনে রেখে নানা কায়দায় ধান্ধাবাজিতে মত্ত রয়েছে কতিপয় ব্যক্তি। এরা সমাজ’র জন্য মারাত্বক হুমকিস্বরূপ। এদের কারণে দিনে দিনে যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। স্কুল ও কলেজগামী ছাত্ররাও ধাবিত হচ্ছে মদ ও জুয়ার আসরের দিকে।

বিশেষ করে নগরীর চাঁদমারীতে মুক্তিযোদ্ধার ব্যানার সেটে জমজমাট জুয়ার আসর অব্যাহত রেখেছেন ধান্ধাবাজরা। আর এই জুয়া পরিচালনা করছেন জুয়ারী কবির। মূলত: ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা তোতা, বিএনপি নেতা কামরুলসহ আ.লীগ ও বিএনপির একাধিক নেতা এই জুয়ার আসর পরিচালনা করছে। এখানে গভীর রাত পর্যন্ত চলে জুয়া।

এ যেন আ.লীগকে কলঙ্কিত করার পায়তারা চালাচ্ছে বিএনপির একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল। এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্যস্ততম এলাকা চাঁদমারীতে সিদ্দুকুর রহমান টাওয়ারের ২য় তলায় ও ৩য় তলায় অসহায় মুক্তিযুদ্ধা পুর্নবাসন ক্লাবের আড়ালে চলে এ অসামাজিক কর্মকান্ড। তবে পুরো ব্যাপারটিতে কোতয়ালী পুলিশ জেন জেগে ঘুমিয়ে আছে। ঐ এলাকায় এ বিষয়টি জানে সবাই।তবে কেউ মুখ খোলে না। সাবেক পুলিশ কমিশনার এস এম রুহুল আমিনের দায়িত্বশীল ভুমিকায় নগরী থেকে এসব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি বদলী হবার পর আবারো নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চলছে এসকল ব্যবসা। জানা গেছে, সংবাদ প্রকাশের পর থেকে এখন দিনেও জুয়ার আসর বসছে।

প্রতিদিন দুপুরে ঐ ভবনে বসে জুয়ার কোট। নগরীর মধ্য থেকে বিভিন্ন এলাকা এবং বরিশালের পার্শবর্তী বাকেরগঞ্জ বরগুনা থেকে আসে লোক। বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রাখতে এবং অবাধ ব্যবসা পরিচালনা করতে কোতয়ালী থানা পুলিশ ও ডিবিকে দেয়া হয় মোটা অংকের টাকা। ফলে তারাও থাকে চুপচাপ। নগরীতে সাদিক আবদুল্লাহ মেয়র হবার পর কিছু ভাল কাজ করে মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। কিন্তু এভাবে যদি নগরীতে যাত্রা জুয়া শুরু হয় তাহলে তার গলার কাটাও হয়ে দাড়াতে পারে এগুলো। তাছাড়া সরকার সারা দেশে জুয়া মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করলেও বরিশালের মত শান্তির নগরীতে এমন কার্যক্রম সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অপচেষ্টা বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সবচেয়ে অবাক বিষয় হচ্ছে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পুনরবাসন কেন্দ্র নামে ঐ বাসার ২য় ও ৩য় তলা ভাড়া নেয়া হলেও ঐ স্থানে চলে জুয়ার আসর। এলাকাবাসী জানায় রাত ১২টার দিকে বিএনপি নেতা কামরুল,তোতার নেতৃত্বে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসে জুয়ারীরা। একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় ঐ বাসা থেকে কামরুলকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ, এ সময় দুলাল, কবির, তোতা পালিয়ে যায়।

পরে প্রশাসন ম্যনেজ করে পুনরায় চালু হয়েছে এ ব্যবসা। সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর গুড ইমেজকে বেকায়দায় ফেলতে ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতার নেতৃত্বে চলছে এখন জুয়ার ব্যবসা। মিডিয়া ডিলের দ্বায়িত্বে থাকা জুয়ারু কবির জানান বরিশালের বেশ কিছু মিডিয়ার সাথে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে কেউ পত্রিকার লেখেনা। অন্য একটি সুত্র জানায় প্রতিরাতে থানায় পৌছে যায় খাম।এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব এর অসাধূ কিছু কর্তারা এসে বিটমাণি নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে নগরীর চিহ্নিত জুয়ারীরাই অন্ধকার গলিতে নিয়ে যেতে এহেন ন্যাক্কারজনক আসর বসিয়ে পকেটে পুরে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদমারী মসজিদ সংলগ্ন সিদ্দিকুর রহমানের ৪র্থ তলা ভবনে বেশ কয়েক দিন আগ থেকে জুয়ার আসর খুলে বসেন নগরীর কয়েক জন চিহ্নিত জুয়ারী। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্থান থেকে জুয়ারীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এ যেন দেখার কেউ নেই।

এই আসরটি পরিচালনা করছেন মজিবর রহমান নামের এক ব্যক্তি। তিনি বরিশালের চিহ্নিত জুয়ারী হিসেবে পরিচিত। যেখানেই জুয়ার আসর বসে সেখানেই মজিবর আসন গেড়ে বসেন। জুয়া খেলাই তার নেশা। সূত্রের ভাষ্য, বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত জুয়ারীদের জন্য মদ্যপানেরও ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া যুক্ত রয়েছেন হারুন অর রশীদ নামের এক ব্যক্তি। জনমনের প্রশ্ন কে এই হারুন অর রশীদ? অবশ্য জুয়ারী মজিবর বলেছেন, ওই ব্যক্তি নাকি একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনিও আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। এরবাইরে আরো কয়েক জুয়ারী আসরটি দেখভাল করে আসছেন। সূত্র জানায়, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার পূর্নবাসন কল্যান ফাউন্ডেশন’র নামে সিদ্দিকুর রহমান ভবনের ৪র্থ তলায় জুয়ার আসর বসানো হয়। এখানে মদ আর জুয়ার আসর রাখার কারণে স্থানীয় মুসল্লীরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এ প্রসঙ্গে মজিবর রহমান সেল ফোনে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার পূর্নবাসন কল্যান ফাউন্ডেশন’র একটি অফিস খোলা হয়েছে। জুয়ার আসর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রথমে কিংকতর্ব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন জুয়ারী মজিবর রহমান। কিছুক্ষণ পর বলেন, আপনাকে এই খবরটা কে দিয়েছে?

বলেন, এখানে মুক্তিযোদ্ধারা বিনোদন করছেন। সচেতন মহল বলছেন, এখানে জুয়ার আসর বিরাজমান থাকায় উঠতি বয়সী যুবকরা ক্রমেই বিপদগামী হচ্ছে। এজন্য জুয়ার আসর বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন। এদিকে জুয়ারী মজিবর জানিয়েছেন আমরা একটু বিনোদন করি, এরবাইরে অন্য কোনো ধরণের অন্যায় অপকর্ম করা হয় না। এ বিষয়ে আলাপ করা হয় কোতয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলামের সাথে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি জানেন না।

তিনি অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন। এ বিষয়ে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবের সিও আতিকা ইসলাম জানান, মাদক জুয়া এ ব্যাপারে আমরা সবসময়েই সচেতন। যদি নগরীতে এ ধরনের কর্মকান্ড ঘটে থাকে তাহলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অন্যদিকে নগরীতে ফের জুয়া চালু হওয়ায় ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সুশীল সমাজ। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বরিশাল মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আবু মাছুম ফয়সাল জানান, যুব সমাজকে ধ্বংশের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে এই জুয়া। জুয়া খেলে রাতে জখন বাড়ি ফেরে কেউ থাকে খোশ মেজাজে আবার কেউ বা থাকে হতাশা গ্রস্ত। ফলে বেরে যায় সামাজিক অবক্ষয়।

সাবেক পুলিশ কমিশনারের দৃঢ়চেতা মনোভাবে নগরী থেকে এগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি বর্তমান মেয়র মহোদয় ঘোষনা দিয়েছিলেন নগরীতে কোন জুয়া তিনি চলতে দেবেন না। কিন্তু এখন যদি পুনরায় চালু হয় তাহলে দুঃখ্য জনক। অবিলম্বে প্রশাসনের নিকট এ জুয়া বন্ধের দাবী জানান তিনি।

নতুবা যুবসামজকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের ঘোষনা দেন তিনি। বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সচেতন নাগীরক কমিটি সনাকের আহ্বায়ক মানবেন্দ্র বটব্যাল জানান, জুয়া হচ্ছে একটি সর্বনাশার অধ্যায় সামজের জন্য। এখনি যদি এগুলো বন্ধ করা না যায়। তা হলে আমাদের কে আবারো ২০১০ সালের গড়িয়ার পাড়ের দিকে ফিরে যেতে হবে।

বর্তমান মেয়র মহোদয় যদি এব্যাপারে ব্যবস্থা না নেন তাহলে এর দায়বার তার কাধেও উঠবে। এগুলো প্রতিরোধ করতে অভিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহীনী সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন কে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।