‘বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার’ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম!

0
99

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীরর সার্কিট হাউজের উত্তর পাশে, জাজেস কোয়াটারের সামনে ও বরিশাল জিলা স্কুলের উত্তর পূর্বকোনে সাড়ে তিন হাজার স্কোয়ার বর্গফুটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অবস্থান। গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৬০ শতাংশ জমির উপর এই শহীদ মিনার। রাজধানীর পরেই বরিশালের কেন্দ্রীয় এই শহীদ মিনারটি বৃহত্তম বলে দাবি বরিশালের সাংস্কৃতিকজনদের। এছাড়া বরিশালের এই শহীদ মিনারের সাথে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

নির্মাণের ইতিকথা: সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে ভাষা আন্দোলনের পরের বছর থেকে প্রত্যেক ২০ ফেব্র“য়ারি রাতে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতো। কয়েক বছর পর বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে অস্থায়ী শহীদ মিনার গড়ে তোলা হয়।

প্রতিবছর শহীদ দিবস উপলক্ষে রাতের আলো ফুটবার আগেই শ্রদ্ধাঞ্জলিতে ভরে যেত শহীদ বেদী। এ অবস্থা চলতে থাকে ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত। ১৯৭৩ সালের ৩ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বরিশাল সফরকালে এখানকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ঐ শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। বরাদ্দকৃত টাকা পেতে বিলম্ব হওয়ার কারণে এখানকার উদ্যোক্তারা নিজস্ব উদ্যোগে ৫২ হাজার ১১৫ টাকা চাঁদা সংগ্রহ করে নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর এ উদ্যোগ থমকে দাঁড়ায়। নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হলেও চেতনাদীপ্ত মানুষ প্রতিবছর একুশের ভোরে বঙ্গবন্ধুর ভিত্তিপ্রস্তর করা স্তম্ভেই শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করতো। পরে ১৯৮৫ সালে শহীদ দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত সভায় পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।

তৎকালীন জেলা প্রশাসক আজিজ আহমেদ ১২ ফেব্র“য়ারী জেলা প্রশাসক সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় ২১ সদস্য বিশিষ্ট শহীদ মিনার নির্মান কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সভাপতি করা হয়েছিলো অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় অধ্যক্ষ হোসেন আলীকে। পরে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্য সংখ্যা ৫৭ তে উন্নীত করা হয়। এই কমিটি ৫২ হাজার একশত ১৫ টাকা আর নগরীর বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে উত্তোলন করা টাকায় শহীদ মিনার নির্মান করা হয়। শহীদ মিনার নির্মানে মোট ব্যয় হয় ৬ লাখ টাকা। ১৯৮৬ সালে সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদ ১৭ থেকে ২১ ফেব্র“য়ারী পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপি অনুষ্ঠান মালার মাধ্যমে শহীদ মিনারে সকলের জন্য উম্মুক্তঅনুষ্ঠানমালা শুরু হয়। শহীদ মিনার নির্মান কমিটির সভাপতি সাইফুদ্দিন আহমেদ ১৯৮৮ সালে জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করলে শহীদ মিনারে প্রথম সংবর্ধনা দেয়া হয় তাকে। পরবর্তিতে শহীদ মিনার নির্মান কমিটি সংরক্ষন কমিটিতে রুপান্তর করা হয়। জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধ এনায়েত হোসেন চৌধুরীকে নিয়ে গঠিত কমিটি এখনও বিদ্যমান। প্রথম এখন পর্যন্ত শেষ কমিটিতে চলছে শহীদ মিনার সংরক্ষন কমিটি।