কবর শহীদ নগরীতে গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে

0
153

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বাগেরহাটের কচুয়া থানার বিধবা ধর্ষণ মামলার আসামি মো. শহীদুল ইসলাম ওরফে কবর শহিদ নলছিটিতে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও রহস্যজনক কারণে তাকে গ্রেফতার করেনি নলছিটি থানা পুলিশ। অবশেষে গত মঙ্গলবার রাতে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ মো. শহীদুল ইসলাম ওরফে কবর শহিদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

পরে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে। এদিকে ধর্ষন মামলার আসামী মা. শহীদুল ইসলাম ওরফে কবর শহিদকে গ্রেফতার করায় বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশকে নলছিটির সাধারন মানুষ অভিনন্দন জানিয়েছে। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর রূপাতলী টোলপ্লাজা এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় এএসআই মো. সবুজ আলম খান ও এএসআই মো. মামুন হাওলাদার।

পরে রাত ৮টার দিকে মো. শহীদুল ইসলাম ওরফে কবর শহিদকে তারা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। উল্লেখ্য, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগে নলছিটি উপজেলার ভরতকাঠী গ্রামের নুহু গাজীর পুত্র লুৎফর গাজী (৩৮) ও একই গ্রামের আ. রশিদ হাওলাদারের পুত্র মো. শহীদুল ইসলাম ওরফে কবর শহীদের (৩০) বিরুদ্ধে বাগেরহাটের কচুয়া থানায় গত ২ জুন মামলা দায়ের করেন ভুক্তভুগী নারী। মামলার এজাহারে জানা গেছে, ঢাকায় চাকরি দেয়ার কথা বলে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার টাউন নওয়াপাড়া এলাকার মৃত্যু শুক্কুর আলী শেখের বিধবা স্ত্রী হোসনে আরা বেগমকে (৩৫) সঙ্গে নিয়ে গত ২ জুন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন ওই দুই আসামি।

নওয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে ওঠার পর রাত সাড়ে ৭টার দিকে হোসনে আরা বেগমকে কচুয়া থানাধীন খলিশাখালী গ্রামের জনৈক নয়ন শেখের বাড়িতে নিয়ে দরজা আটকে দেয় তারা। এরপর দু’জনে মিলে ওড়না দিয়ে হাত ও মুখ বেঁধে জোরপূর্বক হোসনে আরাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। রাতে হোসনে আরার গোঙ্গানীর শব্দ শুনে এলাকাবাসীরা তাকে উদ্ধার করে কচুয়া থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই ধর্ষক লুৎফর গাজী ও শহীদুল ইসলামকে আসামি করে হোসনে আরা বেগম একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর গত বছরের ৩ জুন কচুয়া থানা থেকে নলছিটি থানায় পলাতক আসামীদের গ্রেফতারপূর্বক নাম-ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্যাদি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য অনুসন্ধান স্লিপ (আইএস) পাঠানো হয়। কিন্তু নলছিটি থানা পুলিশ শহীদুল নামের ওই আসামিকে গ্রেফতার না করায় সে এলাকায় দিব্যি নানা অপরাধ-অপকর্ম করে যাচ্ছেন। এমনকি মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নলছিটি থানায় অনুসন্ধান স্লিপ আসার পরেও বিভিন্ন কাজে আসামি শহীদুল ইসলাম একাধিকবার থানায় গিয়েছেন। থানার কয়েকজন উপ-পরিদর্শক ও সহকারি উপ-পরিদর্শকের সঙ্গে তার সখ্যতা থাকায় শহীদুল দপদপিয়া ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে অবস্থান করলেও পুলিশ তাকে ধরছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কচুয়া থানার পরিদর্শক সরদার ইকবাল হোসেন জানান, ধর্ষণ মামলার আসামি শহীদ ও লুৎফরকে গ্রেফতারপূর্বক প্রয়োজনীয় তথ্যাদি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নলছিটি থানায় অনুসন্ধান (আইএস) পাঠানো হয়েছে। তারা এখনো কোন আসামি গ্রেফতার করতে পারেননি বলে আমাকে জানিয়েছেন। বরিশাল কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম বলেন, অপরাধীদের ব্যাপারে কোন ছাড় নেই। অপরাধী যত প্রভাবশালী হইক না কেন তাদের ছাড় দেয়া হবে না। আমরা ধর্ষন মামলার আসামী মো. শহীদুল ইসলাম ওরফে কবর শহিদকে ধর্ষণ মামলার ওয়ারেন্ট ও চেকপ্রতারনা মামলায় বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, মামলার বাদী নলছিটি থানায় যোগাযোগ না করায় মামলাটি সাজানো বলে মনে হয়েছে। কচুয়া থানার পুলিশ চাইলে শহিদকে তাকে গ্রেফতার করে নিতে পারত।