শিকারপুরে ঐতিহ্যবাহী জি.জি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশেই ইটভাটা, স্বাস্থ্যঝুঁকি

0
15

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালের উজিরপুর উপজেলার দক্ষিন শিকারপুরে ঐতিহ্যবাহী জি.জি উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে দীর্ঘদিন যাবৎ পরিত্যাক্ত ইটভাটা “ মেসার্স সরদার ব্রিকস” নামপরিবর্তন করে “মেসার্স এস থ্রি স্টার” নামে পুনরায় চালূ করেছে ইটভাটাটি। এ ভাটায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে জ¦ালানি কাঠের মাধ্যমে ইট পোড়ানোয় মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। এই ইটভাটায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ইট পোড়ানো শুরু হয় তখন এর আধা কিলোমিটার জায়গাজুড়ে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। যার কারণে এর পাশে এলাকাবাসী শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় পড়েন। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’র শিক্ষার্থী উপস্থিতির হারও কমে যায়।

এদিকে “এস থ্রি স্টার” ব্রিকস নামে নামে ওই ইটভাটার পাশেই শিকারপুরে ঐতিহ্যবাহী জি.জি উচ্চ বিদ্যালয় নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। উক্ত ব্রিকফিল্ডের মালিক মোঃ নুরুল হক সরদারের বিরুদ্ধে বরিশাল বিজ্ঞ চতুর্থ যুগ্ন জেলা জজ আদালত থেকে তাহার সমস্ত সম্পত্তি নিলামের আদেশ দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরোজমিনে উপস্থিত হয়ে ইটভাটায় লাল নিশান টানিয়ে দেয়।

২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর ইং তারিখে ওই এলাকায় মাইকিং করিয়া জি.জি স্কুল প্রাঙ্গনে প্রকাশ্যে নিলাম ডাকিলেও ওই সময় কোন ক্রেতা পাওয়া যায় নাই। কিন্তু লাল নিশান ও নিলাম আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় নুরুল হক সরদার, শাহীন ও উক্ত এলাকার রুহুল খান আদালতের আদেশকে উপেক্ষা করে লাল নিশান উপড়ে ফেলিয়া চলতি বছর “মেসার্স এস থ্রি স্টার ব্রিকস” নতুন নামে দেশীয় জ¦ালানী কাঠ দিয়া ইট পোড়ানোর মহোৎসব। এ বিষয়ে এলাকার সাধারন লোকজন এ বিষয়ে “মেসার্স এস থ্রি স্টার ব্রিকস” এর কাছে জানতে চাইলে বলে,তারা প্রশাসন, আদালত, পরিবেশ অধিদপ্তর, ভ্যাট অফিস ও বিএসটিআই ম্যনেজ করিয়া নিয়ে ইট ভাটা চালু করেছে বলে জানান তাদের। ইক্ত এলাকার একজন সচেতন ব্যাক্তি স্ব-শরীরে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরে ইটভাটা বন্ধের জন্য আবেদন করিলে অজ্ঞাত কারনে পরিবেশ অধিদপ্তর নিরব ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন সেই ব্যাক্তি। একটি ঘনবসতিপূর্ন এলাকা এবং শিকারপুরে ঐতিহ্যবাহী জি.জি উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে ইটভাটা পরিচালনার ছাড়পত্র প্রশাসন কিভাবে দেয়? এ নিয়ে বিশ্ময় প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

শিকারপুরে ঐতিহ্যবাহী জি.জি উচ্চ বিদ্যালয়ের চলতিবছরের এসএসসি পরীক্ষা চলমান। ইটভাটার ধোয়ায় শিক্ষার্থীরা ও এলাকাবাসী চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থী ও সাধারন মানুষ শাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন সচেতন মহল। শিকারপুরে ঐতিহ্যবাহী জি.জি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাসে গিয়ে দেখা গেল, শিক্ষার্থীদের জানালার অদূরে ইটের সারি। কিছু ইট পোড়ানো হয়েছে, কিছু রয়েছে পোড়ানোর অপেক্ষায়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, কিছুক্ষণ পরপর ধুলোর আস্তরণ পড়ে বই ও বেঞ্চের ওপর। ইটভাটার কারণে অসুবিধা হয় কি না, জানতে চাইলে স্কুলের শিক্ষকরা বললেন, অসুবিধা তো অবশ্যই হয়। ইটভাটার পাশাপাশি ধোয়ায় ও প্রচুর ধুলাবালি আসে। স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন তারা।

ইটভাটার ম্যানেজার জানান, এই ভাটায় তিন লাখ ইটের ধারণক্ষমতা রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন শ মণ জ্বালানি কাঠ লাগে। এ বিষয়ে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পেয়েছি। জনসাধারণের ক্ষতি হয় এমন কাজ করতে দেওয়া হবে না। সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।