নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, অনুগ্রহ করে দেশের চলমান রাজনীতিতে সংকট সৃষ্টি করে নির্বাচন বিলম্ব করবেন না।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ কর্মজীবী দল আয়োজিত ‘রমজানের আগে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ রাখা ও দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দরকার। সংস্কার অস্বীকার করি না। যে সংস্কারের মধ্য দিয়ে আমাদের নেতা তারেক রহমানের সুষ্ঠু নির্বাচন, মৃত ব্যক্তির ভোট নয়, দিনের ভোট দিনে, এমন উক্তিকে সফল করতে পারবেন। যেটুকু দরকার ততটুকু সংস্কার করেন, একটা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে দেন। বিলম্ব নয়, এতে ক্ষতি। অবিশ্বাস আর অবহেলা কিন্তু ভালোবাসায় থাকে না। আমাদের যদি অবিশ্বাস করেন ক্ষতি জনগণের হবে, বিএনপির ক্ষতি এরশাদ করতে পারে নাই, হাসিনা করতে পারে নাই, ইনশাআল্লাহ কেউ করতে পারবে না।
বিএনপির সাবেক এই চিফ হুইপ বলেন, ড. ইউনূস (প্রধান উপদেষ্টা) আপনি পৃথিবীর সম্মানীয় ব্যক্তি, আমাদের সম্মান বৃদ্ধি করেছেন, আপনাকে কখনও অপদস্থ করতে দেব না। কারণ আপনি যদি সত্যিকার অর্থে আমাদের কথা, জনগণের কথা বুঝে থাকেন অনুগ্রহ করে, সংস্কার চলুক কিন্তু সংস্কারের নামে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিলম্ব করবেন না। এটা বুঝতে যদি আপনার দেরি হয় তাহলে আপনার প্রতি জনগণের আস্থা উঠে যাবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে যুবদল, ছাত্রদল, বিএনপির কোন কর্মী আওয়ামী লীগের যারা অত্যাচার করেছে তাদের ওপর হাত উঠায়নি।
বড় শয়তান এখনও ধরা হয় নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কান কথা, আবোল-তাবোল কথা নয়, ডেভিল হান্ট করছেন বড় বড় শয়তান এখনও ধরা হয় নাই। যারা বড় শয়তান, ২০১৪ সালে যদি এই বড় শয়তানের নির্বাচনে কেউ কেউ অংশগ্রহণ না করতেন শেখ হাসিনা সেদিনই বিদায় নিতো। ২০১৮ আমরা নির্বাচনে গিয়েছিলাম, চা-বিস্কুট খেয়ে আপনাকে বিশ্বাস করেছিলাম, সেই বিশ্বাসের ঘরে আগুন দিয়েছেন। দিনের ভোট রাতে করে আমাদের বেইজ্জতি করেছেন। আল্লাহ তো আছেন, সেই বেইজ্জত আপনিও হচ্ছেন। চুরি করে পালিয়ে গেছেন। যদি সৎ সাহস থাকতেন আপনি আইনের কাছে যেতেন, আপনার বিচার হতো। আপনি যদি আমার নির্দোষ নেত্রীকে বিনা বিচারে ৫ বছর জেলে রাখতে পারেন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে জনগণের সরকার হবে, সেই সরকার আপনাকে কত হাজার বছর জেল দেবে সেটা আমরা দেখতে চাই।
বাংলাদেশ কর্মজীবী দলের সভাপতি মো. সালাহ উদ্দিন খান পিপিএমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসেন সর্দার। এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।