রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভিলেন বানানোর প্রতারণামূলক নতুন কৌশল

রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার জন্য নানা কৌশল প্রয়োগ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল যে নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে, তা কেবল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে সরাসরি প্রতারণার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই কৌশলের মূল বিষয় হলো—নিজেরা যে সুবিধা ভোগ করছে কিংবা ভবিষ্যতে 'বিশেষ করে নির্বাচন সময়ে' ভোগ করার পরিকল্পনা করছে, সেই সুবিধা অন্য রাজনৈতিক দল নিচ্ছে—এমন একটি ভ্রান্ত ধারণা পরিকল্পিতভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে জনগণের চোখে “ভিলেন” হিসেবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বর্তমান সরকার প্রকৃতপক্ষে কাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত—এ বিষয়টি দেশের সাধারণ মানুষ জানে এবং বাস্তবতা হিসেবেই মেনে নেয়। কিন্তু সেই বাস্তবতা আড়াল করার জন্যই উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে যে, প্রশাসন নাকি বিএনপি'র দিকে ঝুঁকে গেছে। বাস্তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন থেকে শুরু করে অরাজনৈতিক, ধর্মীয় ও ব্যবসায়ী সংগঠন পর্যন্ত জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতা বিএনপি'র ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন, প্রশাসনিক পক্ষপাতের কোনো প্রমাণ নয়।
বিএনপি বর্তমান প্রশাসন থেকে ন্যূনতম সুবিধাও পায়নি—তার জ্বলন্ত উদাহরণ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ের পরও ইশরাক হোসেন দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি। যদি প্রশাসন সত্যিই বিএনপির দিকে ঝুঁকে থাকত, তাহলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এই ঘটনাই প্রমাণ করে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বৈষম্য বিদ্যমান।
জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে এবং জনাব তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকে বিএনপি'র জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা যত স্পষ্ট হচ্ছে, ততই একটি বিশেষ মহল বিএনপির জনপ্রিয়তার লাগাম টেনে ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা একের পর এক নতুন ন্যারেটিভ তৈরি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
যখন বিএনপি দেশ গঠনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই “প্রশাসন বিএনপির দিকে ঝুঁকে গেছে”—এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তারা বুঝতে পারছে যে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে বিপুল সংখ্যক আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। সেই সম্ভাবনাকে ভয় পেয়েই তারা আগেভাগে প্রশাসনকে বিতর্কিত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। নিজেদের নিশ্চিত রাজনৈতিক ভরাডুবি আঁচ করেই তারা নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
এই গোষ্ঠীর লক্ষ্য স্পষ্ট—জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিএনপির প্রতি বিদ্বেষ তৈরি করা, সংসদে কোনো রকমে ২০–২৫টি আসন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের বিএনপি সরকারকে শুরু থেকেই বিতর্কিত করে রাখার রাস্তা তৈরি করা। এ ধরনের অপপ্রচার কোনোভাবেই সুস্থ রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না; বরং এটি সরাসরি রাজনৈতিক প্রতারণা।
সুকৌশলে রাষ্ট্রযন্ত্র, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে জনমতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। জনগণকে সত্য থেকে দূরে রাখার এই অপচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
শিক্ষাঙ্গনসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরে এই বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চলমান। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সচেতন নাগরিকদের সত্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানাই।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনাব তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বিএনপি আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও জনগণনির্ভর রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই আগামী দিনে বিএনপি দেশ গড়ার দায়িত্ব গ্রহণ করবে—এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
লেখক- মোঃ রায়হান রাহেল
সাংগঠনিক সম্পাদক
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ছাত্রদল।
