আত্মবীক্ষণ

আমাকে সাড়ে তিন হাত প্রশান্তির আবিরমাখা
মায়াবী একখন্ড জমিন দাও, জমিনের ভেতরের জমিন,
একটি আয়তাকার বিবর বটে।
বিকাশহীন আকাশ আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
চিরায়ত এই ছোট্ট ভিটে প্রকোষ্ঠটি ললিত সন্ধ্যা ও কুন্ডলিত
রাত্রির মাঝেও জলজ জোছনায় আলোকিত হবে।
আমি পুলকিত চোখের পলে কাঁচামাটির সিজদা
বিন্দুটিকে আবিস্কার করি এবং মহা প্রভূর পানে নিবিড়
সিজদাবনত হই, দেখি ঠিকরে ঠিকরে পড়া
আলোর উল্লম্ফন, আলোর প্রক্ষেপন।
সাদা কাফন আর আলোর মায়াবী প্রণয়
আমাকে বিমোহিত করে।
আসমুদ্রহিমাচল বিসৃত ডানায় ভর করে আসে
মহা প্রভূর বার্তাবাহক। রাত্রির কলস ভেঙ্গে আলো আর সুরভীর
নির্মল বিকিরণ, বিচ্ছুরণ।
অতঃপর-
ভাঙ্গলো হঠাৎ নিথর নিরবতা
শান্তি আমার পল্লবে কি গাঁথা?
রৌদ্ররথীর কঠিন জেরা শুরু
সিজদা থেকে মাথা তুলি পুরো।
ভাবনাগুলো ধুলোর মতো ছোটে
কথাগুলো কাপতে থাকে ঠোঁটে
শুধতে হবে প্রাণভরণের দেনা
আমল দিয়ে যাবে কি তা কেনা ?
এবার তুমি বলো, কী করেছো রোজ ?
জীবন কি ছিলো তোমার মধ্যাহ্নের ভোজ?
হুকুম এলে খুলে নেবো বুকের সকল পাঁজর
আধাঁর ঘরে শুনবেনা কেউ তোমার শত ওজর।
সম্বল কী এনেছো আজ আধাঁর গহীন ঘরে ?
কান্নার জল জমিয়েছি সুবেহ্সাদেক ভোরে
পরের অন্ন লুটিনি কভু, বুনিনি মায়ার জাল
সত্য আমার শানিত আয়ুধ, সত্য আমার ঢাল।
স্রষ্টা আমায় বলেছিলেন, সৃষ্টি ভালোবাসো
আমার জীবন নিলাম দিলাম, প্রভু এবার হাসো
হেসে প্রভু বলে আমায়, তোমার জন্য ক্ষমা
সাত আসমানের সকল সুখ আমার জন্য জমা।
হৃৎকমলের পাপড়ি জ্বলে, সীমার মাঝে অসীম
সোবাহান আল্লাহি ওয়াবিহামদিহি, সোবাহান আল্লাহিল আযীম।
কবি - কাজী জিয়া উদ্দিন, ডিআইজি, বাংলাদেশ পুলিশ











