ফসিল ঘোষণার পর দেশের কয়েকটি জেলার মাঠ প্রশাসনে সমন্বয়হীনতা, সিদ্ধান্তহীনতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মনোনয়ন গ্রহণ ও যাচাই–বাছাইয়ে ‘চরম অদক্ষতার”’ পরিচয় দিয়েছেন-এমন অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে তাদের সক্ষমতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। পাশপাশি জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) মধ্যে ব্যাচ–সিনিয়রিটি বৈষম্য, ভূমি প্রশাসনে অনভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ‘সাহসের ঘাটতি’ এসব কারণে মাঠ প্রশাসনে অনেকাংশে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অতি সম্প্রতি সম্প্রতি সরকারের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও নির্বাচন কমিশনের সচিবকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশপাশি কয়েকজন জেলা প্রশাসককে সরিয়ে অভিজ্ঞদের পদায়নেরও সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। আরও বলা হয়েছে-সাম্প্রতিক কিছু জেলার ডিসিরা মনোনয়ন যাচাই–বাছাইসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। একই সাথে কয়েক জেলায় দায়িত্বরত জেলা প্রশাসক ভূমি-প্রশাসনে অভিজ্ঞতার অভাবে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত করে তুলছে। এরপরও সরকারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ওই চিঠির আলোকে সরকারের নীতি নির্ধারকরা এখনো কোন পদক্ষেপ নেননি বলে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসক ‘জেলার অভিভাবক’, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন: প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও সরকারের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে জেলা প্রশাসক (ডিসি)কে জেলার অভিভাবক ধরা হয়। অন্যদিকে, পুলিশ সুপার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ফোকাল পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রচলিত প্রথায় ডিসি সিনিয়র হলে কমান্ড ও সমন্বয় প্রতিষ্ঠা সহজ হয়। কিন্তু বর্তমানে বেশিরভাগ জেলায় দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র-জেলা প্রশাসক জুনিয়র, পুলিশ সুপার সিনিয়র। এখন বেশ কয়েকটি জেলায় ডিসিরা পুলিশ সুপারদের তুলনায় এক থেকে তিন ব্যাচ পর্যন্ত জুনিয়র। ফলে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে কিংবা নির্বাচন–সংক্রান্ত দায়িত্বে ডিসিদের কর্তৃত্ব প্রভাবিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সচিবালয়ে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসনে সিনিয়রিটি শুধু মর্যাদার বিষয় নয়; এটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কমান্ড প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। জুনিয়র ডিসি এবং সিনিয়র এসপি এই অসম কাঠামো মাঠ প্রশাসনে দ্বিধা ও সংঘাত তৈরি করে।
ইকোনমিক ক্যাডার থেকে ডিসি-ভূমি প্রশাসনে অদক্ষতা: বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক ইকোনমিক ক্যাডারের কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের ক্যারিয়ারের বড় অংশ অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, বাজেট, উন্নয়ন পরিকল্পনা-এসব খাতে। কিন্তু জেলা প্রশাসকের দায়িত্বের বড় ক্ষেত্র হলো- ভূমি প্রশাসন, নামজারি ও রেকর্ড, উচ্ছেদ অভিযান, ম্যাজিস্ট্রেসি ও রাজস্ব আদায়। এই ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতার অভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দোদুল্যমানতা দেখা যাচ্ছে। অথচ ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব প্রশাসন ও ম্যাজিস্ট্রেসি এসবই ডিসির মূল কাজের বড় অংশ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই ইকনমিক ক্যাডার প্রশাসন ক্যাডারে একীভুত হয়েছিল। সূত্র বলছে এককভাবে এত সংখ্যক ইকোনমিক ক্যাডারের অফিসারদের মাঠে ডিসি হিসেবে পাঠানোর পেছনে মূল নকশা এঁকেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্মসচিব৷ তার অদৃশ্য ক্ষমতাতেই যোগ্য না হওয়া সত্বেও মাঠে পাঠানো হয়েছে ইকোনমিক ক্যাডারের অফিসারদের৷
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ইকোনমিক ক্যাডার থেকে আসা কয়েকজন কর্মকর্তা ডিসি নিয়োগ পেলেও তারা ভূমি-সংক্রান্ত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ঘন ঘন দ্বিধায় পড়ছেন। ফলে এসব জেলায় ফাইলজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণ দূর্বলতা দূর করতে ডিসিদের ‘সাহস’ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি ৬৪ জেলার জন্য ৩২জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যাদের কাজ হচ্ছে- জেলা প্রশাসকদের ‘সাহস দেওয়া’ এবং বিধি-বিধানের সঠিক প্রয়োগে দিক নির্দেশনা দেওয়া। ইতিমধ্যে প্রায় ১২ জন কর্মকর্তা মাঠে নেমে ডিসিদের সহায়তা করছেন বলে জানা গেছে। একইসাথে দেশের ইতিহাসে ইকেনোমিক ক্যাডার থেকে এত সংখ্যক কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসক হিসেবে পাঠানোর পেছনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রভাবশালী যুগ্মসচিবের হাত ; এমন বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে৷
প্রশাসন বিশেষজ্ঞ বলছেন, ডিসিদের ‘সাহস প্রদান’ উদ্যোগ অনেকের কাছে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সংকটের বহিঃপ্রকাশ। যা নজিরবিহিন হিসেবে দেখছেন তারা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যদি আলাদাভাবে কাউকে পাঠিয়ে ডিসির সাহস বাড়াতে বাধ্য হয়, তবে তা স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাঠামোর ব্যর্থতা নির্দেশ করে। জেলা প্রশাসক পদটি দেশের মাঠ প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্ব করে। আর সেই কর্মকর্তাকে আলাদাভাবে যদি সাহস দেওয়া লাগে, তবে বুঝতে হবে তাদের প্রশাসনিক শক্তি কতটা তলানিতে। এই উদ্যোগ বাস্তবে ডিসিদের সক্ষমতার প্রতি প্রশ্ন তোলে এবং মাঠ প্রশাসনে আস্থাহীনতার বার্তা দেয়। রাষ্ট্রের জন্য ভালো বার্তা হতে পারে না্।
তাদের মতে, মাঠ প্রশাসনে সাহস চিঠি দিয়ে দেওয়া যায় না। সঠিক লোককে সঠিক জায়গায় বসালেই সাহস স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসে। তাদের এখন মাঠ প্রশাসনের সবচেয়ে বড় সংকট হলো সিদ্ধান্তে ভীতি। আইন আছে, ক্ষমতা আছে- সাহসটা নেই।
এ বিষয়ে সাবেক আমলা ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুস সবুর বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা হচ্ছে জেলা প্রশাসকের হৃদপিণ্ডের মতো একটি ক্ষেত্র। এ খাতে যারা কাজ করেননি, তারা জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেলে বহু ক্ষেত্রে ফাইল জট, সিদ্ধান্ত বিলম্ব এবং মাঠ–পর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হবে এটাই স্বাভাবিক। তার ভাষায়, মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তা তথা ডিসিকে সাহস আমদানি করে দেওয়া যায় না। সঠিক পদায়ন, অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন এবং আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করাই একমাত্র পথ।
তিনি আরও বলেন, ব্যাচ, সিনিয়রিটি প্রশাসনে নীরব ক্ষমতা। এখানে যারা জুনিয়র, তারা বাস্তবে সিদ্ধান্ত দিতে হোঁচট খান। আর সিনিয়ররা প্রভাব বিস্তার করেন। ফলে দ্বৈত নেতৃত্ব তৈরি হয়। এই কাঠামো তৈরি করছে-সমন্বয় সংকট, কমান্ড দুর্বলতা ও আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে নেতৃত্বের দ্বিধা নির্বাচনকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালনে অনিশ্চয়তা। রিটার্নিং কর্মকর্তা হলো নির্বাচনের প্রথম প্রহরী। এখানে দুর্বলতা মানে-পুরো প্রক্রিয়াই ঝুঁকিতে।
নির্বাচন ঘিরে ডিসিদের অদক্ষতার অভিযোগ: তফসিল ঘোষণার পর কয়েকটি জেলার জেলা প্রশাসকদের মনোনয়ন গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত কাজে চরম অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে সংশ্লিষ্ট ডিসিরা রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না-এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের ভেতর-বাইরের অনেকেই।
তাদের মতে, নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকেন জেলা প্রশাসকরা। তাদের দায়িত্ব শুধু প্রযুক্তিগত নয়; এটি নৈতিক সাহস, সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা এবং আইন জানার ব্যাপার। এখানে দুর্বলতা থাকলে নির্বাচন প্রক্রিয়া সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিল্পনগরী বন্দরনগরী নারায়ণগঞ্জ জেলায় বর্তমানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি বিসিএস ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। অপরদিকে জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির (২০৫৬৩) বিসিএস ২৯তম ব্যাচের কর্মকর্তা। অর্থাৎ ডিসি এখানে এসপির তুলনায় চার ব্যাচ জুনিয়র। সূত্র বলছে, বিভিন্ন সমন্বয় বৈঠক ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে ডিসির প্রভাব অনেকাংশে কম থাকে। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এসপির প্রভাব অনেক বেশি। এতে ডিসির নেতৃত্বের জায়গা সংকুচিত হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। তাছাড়াও অভিজ্ঞতার অভাবে ভুমি সংক্রান্ত মামলা বা জটিলতা নিরসনে নানামুখী সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকার লোকেরাও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন মিজ নাজমুন আরা সুলতানা (২০৫৩৩) বিসিএস ২৮তম ব্যাচ কর্মকর্তা। মাঠ প্রশাসনে ভুমি সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা না থাকায় ভূমি- সংক্রান্ত জটিল বিষয়ে বারবার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মাঠ পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়নে বিলম্বিত হচ্ছে। অথচ ভূমি মামলা, নামজারি, উচ্ছেদ অভিযান এসব ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত জরুরি। সেখানে দ্বিধা থাকলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। একইভাবে বৃহৎ জেলা ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান। সেখানে জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান (২০৫৩২) বিসিএস ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। ব্যাচ বৈষম্যের কারণে এখানেও সমন্বয়- সংকটের অভিযোগ উঠেছে। একই অভিযোগ বাগেরহাট, নেত্রকোনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। বাগেরহাটের ডিসি গোলাম মোহাম্মদ বাতেন ২০৫১২ বিসিএস ২৮তম ব্যাচ, নেত্রকোনার ডিসি মোঃ সাইফুর রহমান (২০৫১৭) বিসিএস ২৮তম ব্যাচ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি মোঃ শাহাদাত হোসেন (২০৫২৭) বিসিএস ২৮তম ব্যাচ। তিন জেলাতেই ডিসিরা সংশ্লিষ্ট এসপির তুলনায় জুনিয়র।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান, অবৈধ দখলমুক্তকরণ, ভূমি অফিসের অনিয়ম-এসব বিষয়ে প্রশাসনের দৃঢ় পদক্ষেপ কম দেখা যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাঠ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, উপরে দ্বিধা থাকলে নিচের স্তরও স্থবির হয়ে পড়ে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্তহীনতা ধরা পড়েছে। বিশেষ কোন ক্ষেত্রে ডিসির সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। এতে প্রার্থী ও সমর্থকদের ভোগান্তি বেড়েছে। তাদের মতে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রয়েছে নানান চ্যালেঞ্জ। সেক্ষেত্রে সরকারের দক্ষ ও সাহসী জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া উচিত ছিলো। কারণ নির্বাচনকালে কখনো কখনো হয়তো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। সকল রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা তখন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের ওপর অনেকটাই ভরসা করে আবেদন নিবেদন করবেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে যদি অদক্ষতা থাকে তাহলে সেখানে সিদ্ধান্তহীনতা ফুটে উঠবে। তখন ভোটের মাঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবার আশঙ্কা থাকবে।
ঢাকার ডিসি ও চট্টগ্রামের ডিসি নিয়োগেও বিতর্ক -আলোচনা: সূত্র জানায়. রাজধানী ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের ডিসিকে অন্যত্র সরানোর সুপারিশ করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সুষ্টুভাবে সম্পন্ন করার জন্য অভিজ্ঞ ও সাহসী কর্মকর্তাকে নিয়োগের জোর সুপারিশ করা হয়েছে। যৌক্তিকতা উল্লেখ করে আরও বলা হয়েছে- মেগাসিটি দুইটি জেলার ডিসির নেতৃত্ব ও সমন্বয় প্রশাসনের মান নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। তাদের নেতৃত্ব দুর্বল হলে এর প্রভাব পড়ে সারাদেশে।
সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষমহলে কতিপয় আমলার বিশেষ ইচ্ছায় ডিসি নিয়োগে যোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিসখ্যতা ও রাজনীতিকে বেশি গুরত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে সিনিয়র ও জুনিয়র বিবেচনায় আনা হয়নি। ফলে সৃষ্টি হয়েছে এসব সমস্যা। আগের মতোই ডিসি ও এসপির মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ছাত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আসন্ন নির্বানকে চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছেন দেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সুধী মহলের ব্যক্তিরা। সুতরাং ডিসি বা এসপি নিয়োগেরক্ষেত্রে সিনিয়র ও জুনিয়র বিবেচনায় আনা উচিৎ ছিল। সেটি উপেক্ষা করে ক্যাডার বৈষম্য যেমন হয়েছে, তেমনি অভিজ্ঞতার অমিল, রাজনৈতিক চাপ ও সিদ্ধান্তহীনতা ফুটে উঠেছে। এতে করে মাঠ প্রশাসনে আস্থাহীনতা ও ভীতি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। যা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে সমালোচনা চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব, ভূমি প্রশাসনে অনভিজ্ঞতা এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক চাপ- সব মিলিয়ে মাঠ প্রশাসন এখন মানসিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় আছে। তার মতে, ডিসি পদায়নে সিনিয়রিটি বিবেচনায় আনা দরকার। ভূমি-প্রশাসনে প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। ডিসি–এসপি সমন্বয় বাড়াতে নীতিমালা স্পষ্ট করতে হবে। সিনিয়র–জুনিয়র দ্বন্দ্ব, অদক্ষতার অভিযোগ, সিদ্ধান্তহীনতা এবং নির্বাচন-কেন্দ্রিক চাপ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে মাঠ প্রশাসন এক অনিশ্চয়তার পর্যায়ে দাঁড়িয়ে। জেলা প্রশাসকরা যদি দৃঢ় নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে- ভূমি প্রশাসন দুর্বল হবে, আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় ভেঙে পড়বে ও নির্বাচন পরিচালনা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।