পুরান ঢাকায় হুজুর সেজে প্রতারণা: ১৭.৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ধরিয়ে দিলে মিলবে ১ লাখ টাকা পুরস্কার

পুরান ঢাকার খাজেদেওয়ান এলাকায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। হুজুর সেজে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি চক্র। এ চক্রের মূল হোতা রাব্বি হোসেন পাভেল। তার দুই সহযোগী হলেন সাজ্জাদুল ইসলাম ও মহিবুল্লাহ সৌরভ।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার তিন মেধাবী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আরিফ, আব্দুল আলিম ও মেহেদী হাসানকে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের প্রলোভন দেখিয়ে এই চক্র প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আরিফ জানান, ব্যবসার কথা বলে রাব্বি হোসেন পাভেল গত ৮ আগস্ট তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেন এবং পরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। বহু খোঁজাখুঁজির পর গত ১৩ আগস্ট তাকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়। এসময় তিনি একটি অঙ্গীকারনামায় সই করেন, যেখানে উল্লেখ ছিল—১৬ আগস্ট ৪ লাখ, ২১ আগস্টের মধ্যে আরও ৬ লাখ এবং বাকি টাকা ছয় মাসের মধ্যে ফেরত দেবেন। পাভেলের ভাই ও ভাবিও ওই অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন।
কিন্তু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ১৬ আগস্ট টাকা পরিশোধ করেননি রাব্বি। বরং ১৭ আগস্ট সকালে সচিবালয়ের সামনে একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা আনার কথা বলে সুযোগ বুঝে সঙ্গীকে ফাঁকি দিয়ে আবারও পালিয়ে যান।
আরিফ আরও জানান, শুধু তাদের কাছ থেকেই নয়, মোট আটজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় ১৭.৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রাব্বি হোসেন পাভেল। তার সহযোগী সাজ্জাদ ও সৌরভও বর্তমানে পলাতক।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। এদিকে, রাব্বিকে ধরিয়ে দিতে পারলে নগদ ১ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন মোহাম্মদ আরিফ।
এই প্রতারণার ঘটনায় পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রতারক চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।












